
ভূরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি: কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে মাদক ও চোরাচালানবিরোধী বিশেষ অভিযানে ৪টি ভারতীয় গরু উদ্ধার এবং ৫ জন চোরাকারবারিকে আটক করেছে থানা পুলিশ। এ ঘটনায় বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪-এর আওতায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই ২০২৬) সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে ভারতীয় গরু, ভারতীয় সিমকার্ডসহ অভিযুক্তদের আটক করা হয়। উদ্ধার হওয়া গরুগুলোর শরীরের বিভিন্ন স্থানে কাঁটাতারের আঘাত এবং পায়ের ক্ষুরে দীর্ঘ পথ অতিক্রমের কারণে ক্লান্তিজনিত ক্ষতচিহ্ন পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ভূরুঙ্গামারী উপজেলার শিলখুড়ি ইউনিয়নের কাজিয়ার চর এলাকায় দুধকুমার নদীর ভারতীয় অংশে নির্মিত বেইলি সেতুর নিচ দিয়ে বিশেষ চিহ্ন ব্যবহার করে ভারতীয় চোরাকারবারিরা গরু নদীতে ভাসিয়ে দেয়। পরে বাংলাদেশ সীমান্তে অবস্থানরত চোরাকারবারিরা নৌকায় করে গরুগুলো কালজানি ঘাটে এনে বিভিন্ন বাড়িতে রাখে। পরবর্তীতে সেগুলো দেশীয় গরু হিসেবে ভূরুঙ্গামারী হাটে বিক্রি করা হতো।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, এ ধরনের চোরাচালানের কারণে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে। একই সঙ্গে দেশীয় গবাদিপশু খামারিরাও ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
আটক পাঁচজনের কাছ থেকে ভারতীয় সিমকার্ডও উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ জানায়, কাজিয়ার চর সীমান্ত এলাকায় বাংলাদেশি মোবাইল নেটওয়ার্ক দুর্বল হওয়ায় চোরাকারবারিরা ভারতীয় সিম ব্যবহার করে যোগাযোগ রক্ষা করে। শিলখুড়ি ও তিলাই ইউনিয়নের বিভিন্ন চোরাচালান চক্রের সদস্যদের কাছেও বিপুল সংখ্যক সচল ভারতীয় সিম রয়েছে বলে পুলিশের দাবি। এসব সিম ব্যবহারের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।
ভূরুঙ্গামারী পুলিশ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মুনতাসির মামুন মুন এবং ভূরুঙ্গামারী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আজিম উদ্দিনের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে ভারতীয় গরু, ভারতীয় সিমকার্ড, ভারতীয় চোরাই মোবাইলসহ বিভিন্ন অবৈধ পণ্য উদ্ধার করা হয়।
এ বিষয়ে সহকারী পুলিশ সুপার মুনতাসির মামুন মুন বলেন, “দুঃখজনক হলেও সত্যি, সীমান্তবর্তী শিলখুড়ি, তিলাই ও পাথরডুবি ইউনিয়নের একটি বড় অংশের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত। তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। তবে চোরাকারবারিদের সামাজিকভাবে পুনর্বাসনের কার্যকর উদ্যোগ না নিলে এ সমস্যা স্থায়ীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হবে।”