
খাদেমুল ইসলাম
পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি
জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে ন্যায় বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন মজিবর রহমান নামে এক ভুক্তভোগী। শুক্রবার দুপুরে পঞ্চগড় সদর উপজেলার হাড়িভাসা ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন এলাকায় সংবাদ সম্মেলন করে এই দাবি জানান ওই ভুক্তভোগী। তাঁর বাড়ি ইউনিয়নের পাহাড়বাড়ি এলাকায়। তিনি পেশায় একজন কৃষক।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, আজ আমি অত্যন্ত ভারাক্রান্ত মন নিয়ে আপনাদের সামনে উপস্থিত হয়েছি। আমি একটি নৃশংস হামলা মামলার বাদী। কিন্তু দুঃখজনক ভাবে মামলা করার পরও আমি ন্যায়বিচার পাওয়ার পরিবর্তে আরও বেশি হয়রানি, ভয়ভীতি ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছি।
তিনি বলেন, গত ৩ জুন তার উপর এবং পরিবরের সদস্যদের উপর পূর্বপরিকল্পিতভাবে দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলা চালানো হয়। এ ঘটনায় আমি, আমার স্ত্রী এবং আমার ছেলে ও মেয়ে গুরুতর আহত হই। আমাদের হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিতে হয়। পরে আমি পঞ্চগড় সদর থানায় মামলা দায়ের করি।
মামলায় অভিযুক্তদের মধ্যে মো. আব্দুস কুদ্দুস, মো. আব্দুল হোসেন, মো. আলম হোসেন, নুরজামাল, মোঃ আব্দুল হামিদ ওরফে লাড্ডু সহ মোট ৯ জনের নাম উল্লেখ করে তিনি জানান, তারা সংঘবদ্ধভাবে আমাদের ওপর প্রাণঘাতী হামলা চালিয়েছে যা মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, অত্যন্ত বিস্ময় ও দুঃখের বিষয় হলো, মামলা দায়েরের পরও পুলিশ কোনো আসামিকে গ্রেফতার করার মতো কার্যকর উদ্যোগ নেয়নি। এতে আমরা শুরু থেকেই হতাশ ও উদ্বিগ্ন ছিলাম। এর চেয়েও উদ্বেগজনক বিষয় হলো, হামলায় আমাদের শরীরে গুরুতর জখম থাকা সত্ত্বেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সঠিকভাবে মেডিকেল সার্টিফিকেট প্রদান করেনি। আমার মেয়ের গলায় স্পষ্ট আঘাতের চিহ্ন ছিল। কিন্তু তার মেডিকেল সার্টিফিকেটে সেই আঘাতের কোনো উল্লেখই করা হয়নি, এমনকি ‘Simple Injury’ পর্যন্ত উল্লেখ করা হয়নি। অন্যদিকে আমার ও পরিবারের অন্য আহত সদস্যদের গুরুতর আঘাত, ধারালো অস্ত্রের ক্ষত এবং মাথায় সেলাই থাকার পরও মেডিকেল সার্টিফিকেটে কেবল “Simple Injury” উল্লেখ করা হয়েছে।
এই মেডিকেল সার্টিফিকেটকে ভিত্তি করে আসামিরা আদালত থেকে জামিন লাভ করে।
আসামীরা গত ৪ আগস্ট তারা জামিন লাভের পর থেকেই তিনি ও তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
তিনি বলেন, জামিনের পর আসামিরা প্রকাশ্যে আমাদের প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে, মামলা তুলে নেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করছে এবং বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে। আমরা এখন নিজ বাড়িতে স্বাভাবিকভাবে বসবাস করতে পারছি না। আমাদের পরিবার আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।
আমি প্রশ্ন রাখতে চাই, যদি একটি মামলার বাদীকে ন্যায়বিচার পাওয়ার পরিবর্তে উল্টো ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকির মুখে থাকতে হয়, তাহলে সাধারণ মানুষ কোথায় যাবে? পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দায়িত্বহীনতার কারণে আজ আমরা ন্যায়বিচার পাওয়া নিয়ে গভীর শঙ্কায় রয়েছি।
সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে দেশবাসী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আবেদন জানিয়ে তিনি বলেন, আমার এই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে আমাকে ও আমার পরিবারকে ন্যায়বিচার পেতে সহায়তা করুন। আমরা কোনো বিশেষ সুবিধা চাই না, শুধু আইনের সঠিক প্রয়োগ এবং নিরাপদে বেঁচে থাকার নিশ্চয়তা চাই।
বিতর্কিত মেডিকেল সার্টিফিকেটের ব্যাপারে কথা বলতে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মাসুদ হাসানের মুঠোফোনে একাধিকবার চেষ্টা করলেও বন্ধ পাওয়া যায়।
পঞ্চগড় সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মখলেছুর রহমান বলেন, থানায় মামলা দায়েরের পর থেকে আমাদের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এ ঘটনায় মামলার বাদি কোন হুমকি বা ভয়ভীতির মধ্যে থাকলে আমাদের জানালে বা অভিযোগ দিলে আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখবো।






