
মোঃ ইমরান আলী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ, ভোলাহাট, গোমস্তাপুর ও নাচোল উপজেলায় চলতি মৌসুমে আমের বাম্পার ফলনের আশা করছেন কৃষকরা। জেলার বিভিন্ন আম বাগানে গাছে গাছে এখন ঝুলছে জোড়া জোড়া মাঝারি আকারের আম। অনুকূল আবহাওয়া ও নিয়মিত পরিচর্যার কারণে এ বছর আমের উৎপাদন ভালো হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
আম চাষিরা জানান, আর এক থেকে দেড় মাসের মধ্যেই বাজারে উঠতে শুরু করবে সুস্বাদু ও রসালো বিভিন্ন জাতের আম। এর মধ্যে রয়েছে ফজলি, ল্যাংড়া, গোপালভোগ, হিমসাগর ও লক্ষণভোগ জাতের আম। ইতোমধ্যে বাগান পরিচর্যা, কীটনাশক প্রয়োগ এবং গাছের যত্নে ব্যস্ত সময় পার করছেন বাগান মালিক ও শ্রমিকরা।
চাষিদের অভিযোগ, আম কেনাবেচায় এখনো সঠিক ওজন নিশ্চিত করা হচ্ছে না। তারা বলেন, অনেক ক্ষেত্রে ৪০ কেজির পরিবর্তে ৫২ থেকে ৫৪ কেজিতে এক মণ ধরা হয়, যা কৃষকদের জন্য ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এ বিষয়ে সরকারের হস্তক্ষেপ ও প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা কামনা করেছেন তারা।
চাষিদের আশা, এ বছর উৎপাদন ভালো হওয়ায় তারা আমের ন্যায্যমূল্য পাবেন। পাশাপাশি বাজারে সঠিক ওজন নিশ্চিত করতে প্রশাসনের নিয়মিত মনিটরিংয়ের দাবি জানিয়েছেন তারা। কৃষকদের মতে, বাজার তদারকি জোরদার করা হলে তারা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বেন না এবং ন্যায্য দাম নিশ্চিত হবে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সূত্রে জানা গেছে, প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে চলতি মৌসুমে জেলায় প্রায় ৪ লাখ ৫৮ হাজার মেট্রিক টন আম উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, অনুকূল আবহাওয়া ও কৃষকদের সঠিক পরিচর্যার কারণে এ বছর আমের ফলন অত্যন্ত ভালো হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
এদিকে জেলার আম বাগানগুলো ঘিরে ইতোমধ্যে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। আম ব্যবসায়ী, বাগান মালিক ও শ্রমিকদের মধ্যেও দেখা দিয়েছে নতুন আশাবাদ। চলতি মৌসুমে চাঁপাইনবাবগঞ্জের আম দেশের চাহিদা পূরণ করে বিদেশেও রপ্তানি হবে বলে আশা সংশ্লিষ্টদের।







