মো. শিহাব উদ্দিন
গোপালগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি
গোপালগঞ্জ পৌরসভার পাঁচুড়িয়া এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা একটি গুরুত্বপূর্ণ চলাচলের পথ অবশেষে জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের গণ-আবেদন, ধারাবাহিক প্রতিবাদ এবং প্রশাসনিক তৎপরতার পর রবিবার (১৪ জুন) জননী সার্জিক্যাল ক্লিনিকের সীমানা দেয়ালের একটি অংশ অপসারণ করে পথচারীদের চলাচলের সুযোগ করে দেওয়া হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ক্লিনিকসংলগ্ন ওই পথটি দীর্ঘদিন ধরে এলাকাবাসীর চলাচলের জন্য ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। তবে দেয়াল নির্মাণের ফলে পথটি বন্ধ হয়ে গেলে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী ও সাধারণ মানুষকে বিকল্প পথে চলাচল করতে হতো। এতে প্রতিদিনই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছিল স্থানীয়দের।
এর আগে গত ৯ মার্চ ‘গোপালগঞ্জে ক্লিনিকের বর্জ্যে দুর্গন্ধ: গণ-আবেদনের পর পৌরসভার অভিযান, খালে বর্জ্য ফেলার পাইপ বন্ধ’ শীর্ষক সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। ক্লিনিকের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও স্থানীয় জনদুর্ভোগের বিষয়টি সামনে আসার পর কয়েকশ বাসিন্দা পৌর প্রশাসকের কাছে গণ-আবেদন জমা দেন।
আবেদনে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের কারণে দীর্ঘদিন ধরে তারা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। বিশেষ করে চলাচলের পথ আংশিক বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এলাকার মানুষের নিত্যদিনের জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছিল।
স্থানীয়দের দাবি ও প্রশাসনের উদ্যোগের পর রবিবার দেয়ালের একটি অংশ অপসারণ করা হলে পথটি আবারও জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত হয়। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকাজুড়ে স্বস্তি ও সন্তোষের প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, “এটি শুধু একটি রাস্তা নয়, আমাদের দীর্ঘদিনের ন্যায্য অধিকার। জনগণের দাবির মুখে পথটি উন্মুক্ত হওয়ায় আমরা স্বস্তি পেয়েছি।”
তাঁরা আশা করেন, ভবিষ্যতে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান জনস্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে মানুষের চলাচলের অধিকার ক্ষুণ্ন করতে পারবে না এবং এ ধরনের বিষয়ে প্রশাসন আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।
রাস্তা উন্মুক্ত হওয়ার ঘটনাকে স্থানীয়রা জনমতের প্রতিফলন এবং নাগরিক উদ্যোগের একটি ইতিবাচক ফলাফল হিসেবে দেখছেন। তাঁদের মতে, সম্মিলিত দাবির প্রতি প্রশাসনের সাড়া দেওয়ার ফলে দীর্ঘদিনের একটি সমস্যার সমাধান হয়েছে।