কবির হোসেন রাকিব , কমলনগর | (লক্ষ্মীপুর) থেকে
আগামীকাল থেকে শুরু হতে যাচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা, অথচ লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলায় বিদ্যুতের ভেলকিবাজিতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। বিশেষ করে পরীক্ষার্থীদের নাভিশ্বাস উঠেছে। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় পড়াশোনায় চরম বিঘ্ন ঘটছে, যা নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
অন্ধকারের প্রস্তুতি: শিক্ষার্থীদের হাহাকার
উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, দিন-রাত মিলিয়ে অর্ধেকেরও বেশি সময় বিদ্যুৎ থাকছে না। কালকের পরীক্ষার জন্য যখন শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি নেওয়ার কথা, তখন অধিকাংশ শিক্ষার্থীকে মোমবাতি বা কুপির আলোয় পড়াশোনা করতে দেখা যাচ্ছে।
শিক্ষার্থীরা জানায়, গরমে যেমন অতিষ্ঠ হতে হচ্ছে, তেমনি আলোর অভাবে বেশিক্ষণ বইয়ের দিকে তাকিয়ে থাকা সম্ভব হচ্ছে না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক কলেজ শিক্ষার্থী বলেন:
"আগামীকাল পরীক্ষা, অথচ আজ সারাদিন কয়েকবার বিদ্যুৎ এসেছে আর গেছে। রাতেও একই অবস্থা। এভাবে চলতে থাকলে আমরা পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করব কীভাবে? আমরা শুধু নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ চাই যাতে শান্তিতে পড়তে পারি।"
অভিভাবকদের উদ্বেগ
সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত অভিভাবকরাও। তারা বলছেন, লোডশেডিংয়ের এই ভয়াবহতা গত কয়েক দিনে কয়েকগুণ বেড়েছে। পরীক্ষার সময় এমন বিদ্যুৎ বিভ্রাট মেনে নেওয়া যায় না। তারা অতি দ্রুত এই সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।
মূল দাবি ও প্রত্যাশা
কমলনগরের শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো হলো:
• পরীক্ষা চলাকালীন নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ: অন্তত পরীক্ষার দিনগুলোতে এবং রাতে যেন বিদ্যুৎ বিভ্রাট না হয়।
• সুনির্দিষ্ট লোডশেডিং শিডিউল: যদি লোডশেডিং করতেই হয়, তবে তা যেন শিক্ষার্থীদের পড়ার সময়ের সাথে সাংঘর্ষিক না হয়।
• কর্তৃপক্ষের তদারকি: স্থানীয় বিদ্যুৎ অফিসের পক্ষ থেকে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ।
ভালো ফলাফলের স্বপ্ন নিয়ে শিক্ষার্থীরা যখন পরীক্ষার টেবিলে বসার প্রস্তুতি নিচ্ছে, তখন লোডশেডিং তাদের সেই স্বপ্নে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কমলনগরবাসীর এখন একটাই প্রত্যাশা—বিদ্যুৎ সমস্যার দ্রুত সমাধান এবং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা।