মোঃ ইমরান আলী
চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি ,
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী জিন্নাতকে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগে মামলা গ্রহণ না করা, পাল্টা মামলা ও হুমকির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছে তার পরিবার। বুধবার -১৯ আগস্ট- সকাল ১১টার দিকে শিবগঞ্জ বাজারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জিন্নাতের মা নিলুফা বেগম অভিযোগ করেন, গত ২০ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে পরিবারের সদস্যরা বাড়িতে না থাকার সুযোগে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্থানীয় মৃত হযরত আলীর ছেলে আলী হোসেন (৪৫) ও তার সহযোগীরা জিন্নাতকে বাড়ির একটি কক্ষে আটকে ধর্ষণ করেন। এ সময় জিন্নাত চিৎকার করলে তাকে শারীরিক নির্যাতন ও গলা টিপে হত্যা করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
নিলুফা বেগমের অভিযোগ, ঘটনা ধামাচাপা দিতে জিন্নাতের মরদেহ ঘরের মধ্যে রডের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়। পরে পপি নামের এক নারী দরজার তালা খুলে অভিযুক্তদের পালিয়ে যেতে সহযোগিতা করেন বলেও তিনি দাবি করেন।
তিনি আরও বলেন, ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তার স্বামী জিয়ারুল হকের কাছ থেকে সাদা কাগজে স্বাক্ষর নেয় এবং মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নিয়ে যায়। পরে ধর্ষণ ও হত্যা মামলা করতে থানায় গেলে পুলিশ মামলা গ্রহণ করেনি। গত প্রায় আট মাস ধরে মামলা করতে গিয়ে তারা হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এদিকে অভিযুক্ত পক্ষ তাদের বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা দিয়ে হয়রানি ও হুমকি দিচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন নিলুফা বেগম। তিনি জিন্নাতের মৃত্যুর ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে জিন্নাতের ফুপু মনোয়ারা বেগম বলেন, তিনি জিন্নাতের মরদেহ দেখেছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, মরদেহের নিম্নাংশ ও মুখ খোলা ছিল এবং শরীরে আঘাতের চিহ্ন ও গলায় দাগ ছিল। এসব আলামত দেখে তাদের ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনা ঘটেছে বলে সন্দেহ হয়।
তবে পরিবারের অভিযোগ অস্বীকার করে ঘটনার তদন্ত কর্মকর্তা তন্ময় কুমার বলেন, “এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্টও চলে এসেছে।”
শিবগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) আনিসুর রহমান বলেন, “আমি সদ্য যোগদান করায় ঘটনাটি সম্পর্কে বিস্তারিত জানা নেই। বিষয়টি জানার পর তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
সংবাদ সম্মেলনে জিন্নাতের ফুপা শোয়েব আলী, ফুফাতো ভাই রুবেল আলী, চাচা জলিল উদ্দিন, ইউসুফ আলী ও ছোট বোন জান্নাতীসহ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
পরিবারের দাবি, জিন্নাতের মৃত্যুর ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন, দায়ীদের আইনের আওতায় আনা এবং তাদের বিরুদ্ধে করা হয়রানিমূলক মামলা ও হুমকি থেকে প্রতিকার নিশ্চিত করতে হবে।