মোঃ শিহাব উদ্দিন, গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি
গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার শুকতাইল ইউনিয়নের এড়োপাড়া এলাকায় এক লাখ টাকা ধার ফেরত চাওয়াকে কেন্দ্র করে এক দম্পতিকে মারধর, নারীকে শ্লীলতাহানি এবং টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় লুচি বেগম নামের এক নারী গোপালগঞ্জ সদর থানায় লিখিত এজাহার দিয়েছেন।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই বছর আগে প্রতিবেশী জাহাঙ্গীর শেখের কাছে এক লাখ টাকা ধার দেন লুচি বেগম। গত ৮ আগস্ট সকালে ওই টাকা ফেরত চাওয়াকে কেন্দ্র করে তাঁদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়।
লুচি বেগমের অভিযোগ, কথা-কাটাকাটির কিছুক্ষণ পর জাহাঙ্গীর শেখসহ কয়েকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে শুকতাইল এড়োপাড়ার একটি মুদি দোকানের পাশে তিন রাস্তার মোড়ে গিয়ে তাঁকে গালিগালাজ করতে থাকেন। এ সময় তাঁর স্বামী শহিদ শেখ প্রতিবাদ করলে জাহাঙ্গীর শেখ লোহার রড দিয়ে তাঁকে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথায় আঘাত করেন। তবে আঘাতটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে তাঁর নাকে লাগে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও বলা হয়, স্বামীকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে কয়েকজন মিলে লুচি বেগমকেও মারধর করেন। একপর্যায়ে তিনি রাস্তায় পড়ে গেলে সবুজ শেখ হাতুড়ি দিয়ে তাঁর বাঁ পায়ের গোড়ালির ওপর আঘাত করেন। এতে তাঁর পায়ে গুরুতর জখম হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
লুচি বেগম অভিযোগ করেন, এ সময় জাহাঙ্গীর শেখ তাঁর পরনের সালোয়ার-কামিজ টানাহেঁচড়া করে শ্লীলতাহানি করেন। একই সময়ে হামিদ/হামিম শেখ তাঁর স্বামী শহিদ শেখের শার্টের বুক পকেট থেকে ১৩ হাজার ২০০ টাকা নিয়ে যান বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
চিৎকার-চেঁচামেচি শুনে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে এগিয়ে এলে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা তাঁদের প্রকাশ্যে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে চলে যান বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
পরে স্থানীয় লোকজন আহত দম্পতিকে ইজিবাইকে করে গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তাঁদের চিকিৎসা দেওয়া হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় লুচি বেগম পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও দুই থেকে তিনজনের বিরুদ্ধে গোপালগঞ্জ সদর থানায় লিখিত এজাহার দিয়েছেন। তিনি অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করেছেন।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। থানায় দেওয়া অভিযোগের সত্যতা তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।