আরিফ শেখ, রংপুর প্রতিনিধিঃ
রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে বহিরাগত ও অদক্ষ ব্যক্তি দিয়ে চলছে চিকিৎসা সেবা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম। আয়া স্ত্রীর ক্ষমতার দাপটে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে এক বহিরাগত ব্যক্তি জেঁকে বসেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। চিকিৎসা সেবার মতো সংবেদনশীল স্থানে রোগী ও স্বজনদের সঙ্গে নিয়মিত দুর্ব্যবহার এবং বাড়তি টাকা দাবির ঘটনায় চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে স্থানীয়দের মাঝে।
গত শনিবার (৮ আগষ্ট) সন্ধ্যায় সরেজমিনে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, বহির্বিভাগের এমারজেন্সি কক্ষে মাধব নামের এক ব্যক্তি রোগীদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় লিপ্ত। তিনি চিকিৎসায় সহযোগিতার পাশাপাশি আগত রোগীদের টিকিট ফি ও ভর্তি ফি কালেকশনসহ হাসপাতালের নানা দাপ্তরিক কাজ সামলাচ্ছেন। জরুরি বিভাগে দায়িত্ব পালনরত চিকিৎসকও বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
হাসপাতালের সংবেদনশীল এই স্থানে উপস্থিতির কারণ জানতে চাইলে মাধব জানান, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বা আউটসোর্সিং কোথাও তার কোনো আনুষ্ঠানিক নিয়োগ নেই। তিনি কেবল তার স্ত্রী, হাসপাতালের আয়া শ্যামলী রানীকে ‘সহযোগিতা’ করতে নিয়মিত এখানে আসেন। কোন এখতিয়ারে তিনি সরকারি ফি আদায় করছেন কিংবা প্রতিদিন কেন এমন করছেন, সে বিষয়ে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।
ভুক্তভোগী রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ, নিয়োগপ্রাপ্ত আয়া শ্যামলী রানী ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে কর্তৃপক্ষের কোনো অনুমতি ছাড়াই তার স্বামীকে হাসপাতালে বসিয়েছেন। মাধব প্রায়ই রোগীদের সঙ্গে বাজে আচরণ করেন এবং নির্ধারিত ফির বাইরে বাড়তি টাকা দাবি করেন। এক রোগীর স্বজন বাড়তি টাকা চাওয়ার কারণ জানতে চাইলে মাধব তেড়ে এসে কটাক্ষ করে বলেন, ‘এটা লাঙ্গলের ইস ফালের টাকা!’ সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে একজন বহিরাগতের এমন ঔদ্ধত্য আচরণ সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে তারাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. হামদুল্লাহর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
ঘটনাটি জানতে পেরে তারাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোনাববর হোসেন বলেন, "বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক ও নজিরবিহীন। সরকারি হাসপাতালে বহিরাগত ব্যক্তির এভাবে কাজ করার কোনো সুযোগ নেই। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।