পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি
খাদেমুল ইসলাম!
পঞ্চগড় জেলা পুলিশ মাদক উদ্ধার, নিয়মিত মামলায় আসামী গ্রেফতার, গ্রেফতারি পরোয়ানা তামিলসহ চুরি-ডাকাতি-ছিনতাই প্রতিরোধে নিয়মিত টহল, চেকপোস্ট ও বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় পঞ্চগড় জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখার একটি আভিযানিক দল অদ্য ২০/০৪/২০২৬ খ্রিঃ তারিখ রাত অনুমান ০২.৩০ ঘটিকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারেন যে, একটি সক্রিয় আন্তঃজেলা ডাকাত দল দেশীয় অস্ত্র-সস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ডাকাতির উদ্দেশ্যে পঞ্চগড় জেলার সদর থানাধীন দশমাইল এলাকায় মাইক্রোবাসযোগে প্রবেশ করেছে। উক্ত গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় একই তারিখ রাত অনুমান ০৪.৩০ ঘটিকায় অভিযান পরিচালনা করে পানি উন্নয়ন বোর্ড অফিস সংলগ্ন পঞ্চগড় টু তেঁতুলিয়া মহাসড়কের পার্শ্বে দাড়িয়ে থাকা ট্রাকের আড়ালে একটি সাদা রঙ্গের পুরাতন নিশান মাইক্রোবাস তল্লাশি করে মাইক্রোবাসের ভেতরে থাকা আন্তজেলা ডাকাত দলের ০২ (দুই) জন (১। প্রদীপ রায় (৩৮), পিতা-আবু চন্দ্র রায়, সাং-ভাবকী ডাঙ্গাপাড়া, থানা-খানসামা ও ২। মোঃ জহুরুল ইসলাম (৩০), পিতা-মোঃ হযরত আলী, সাং-ভুষীর বন্দর, থানা-চিরিরবন্দর, উভয়ের জেলা-দিনাজপুর) সদস্যকে গ্রেফতার করে এবং ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত মাইক্রোবাস ও তাদের নিকট থাকা ০২টি মোবাইল ফোন সাক্ষী সম্মুখে জব্দ তালিকামূলে আটক করে।
গ্রেফতারকৃত ডাকাত সদস্যদ্বয়কে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তারা স্বীকার করে যে, তারা আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সক্রিয় সদস্য। তারা আরো জানায় যে, তাদের সঙ্গীয় ০৮ জন ডাকাত সদস্য ডাকাতির উদ্দেশ্যে পঞ্চগড় সদর থানাধীন দশমাইল এলাকায় অবস্থান করছে। উল্লেখিত ধৃত আসামীদ্বয়ের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পঞ্চগড় সদর থানাধীন বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে অদ্য ২০/০৪/২০২৬ খ্রিঃ ভোর ০৫.০০ ঘটিকা হতে সকাল ০৭.০০ ঘটিকার মধ্যে ডাকাত দলের অপর ০৮ জন (১। মোঃ নুর ইসলাম পাচকেল (৬০), পিতা-মৃত শিরিল টুডু, সাং-ইসলামবাগ, থানা-পঞ্চগড় সদর, জেলা-পঞ্চগড়, ২। মোঃ আঃ সালাম (৫৮), পিতা-মৃত শহিদার রহমান, সাং-অতিরামপুর হাজীপাড়া, থানা-কোতয়ালী, জেলা-রংপুর, ৩। মোঃ খায়রুল ইসলাম (৪৫), পিতা-মৃত জহুরুল ইসলাম, সাং-বৈকন্ঠপুর, ৪। মোঃ বাবুল হোসেন (৫৪), পিতা-মৃত মোবারক আলী, সাং-বেলবাড়ী, থানা-কোতয়ালী, সর্ব জেলা-দিনাজপুর, ৫। মোঃ ফারুক (৩০), পিতা-মৃত আলী হোসেন, সাং-জোলাপাড়া (ঈশ্বরপুর), থানা-কোতয়ালী, জেলা-রংপুর, ৬। মোঃ আঃ মান্নান (৪০), পিতা-মাহমুদ আলী, সাং-খলশী কুমুরিয়া, থানা-দৌলতপুর, জেলা-মানিকগঞ্জ, বর্তমান ঠিকানা সাং-শেখমোড়া, ১৭নং রেলঘোষ্ঠি, জনৈক মোঃ দুলাল বিডিআর এর বাসার ভাড়াটিয়া, থানা-কোতয়ালী, জেলা-দিনাজপুর, ৭। মোঃ আবু ② সুমন (৩০), পিতা-মোঃ ছকিউল ইসলাম, সাং-দক্ষিন বিষ্ণপুর মাঝাপাড়া, থানা-বদরগঞ্জ, জেলা-রংপুর, ৮। মোঃ মমিন ইসলাম (৩৮), পিতা-মোঃ আব্দুল, সাং-দক্ষিন নসরতপুর, থানা-চিরিরবন্দর, জেলা-দিনাজপুর) সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামীদের উপস্থিত লোকজনের সম্মুখে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তারা স্বীকার করে যে, তাদের ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত সরঞ্জামাদি ও ধারালো অস্ত্র আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর নিকট ধৃত হওয়ার ভয়ে পঞ্চগড় সদর থানাধীন ৬নং সাতমেড়া ইউপিস্থ চেকরমারী ঈদগাহ মাঠের সংলগ্ন পাথর গ্যারেজ অফিসের সামনে আম গাছের নিচে বালুর ঢিবিতে লুকিয়ে রেখেছে। উক্ত তথ্যের ভিত্তিতে আসামীর উপস্থিতিতে সাক্ষীগণের সম্মুখে বালুর ঢিবি খনন করে ০১টি সাদা প্লাষ্টিকের বস্তা ও ০১টি সাদা প্লাষ্টিকের ব্যাগের ভিতর রক্ষিত ধারালো বড় ছুড়ি ০১টি, ধারালো মাঝারি ছুরি ০১টি, কাটার মেশিন ০২টি, স্লাইরেঞ্জ ০২টি, প্লাস ০১টি, লাল কালো রং এর কাটার ব্লেড ০১টি, টিয়া ও কালো কালার হাতলসহ হ্যাক্স রেড ০২টি, হাতল ছাড়া হ্যাক্স ব্রেড ০১টি, হ্যাক্স ব্লেড ১৩টি, লোহার তৈরি তারকাটা উঠানো যন্ত্র ০১টি, নাট খোলার গুটি রেঞ্জ ০১টি, নাটে ব্যবহৃত বিভিন্ন সাইজের লোহার গুটি ০৬টি, পলিথিন ৫০ গ্রাম, রশি ৫০০ গ্রাম, টর্চ লাইট ০২টি এবং ডাকাতির কাজে কাজে ব্যবহৃত ০৭টি মোবাইল ফোন জব্দ তালিকামূলে জব্দ করা হয়।
গ্রেফতারকৃত ডাকাত দলের সদস্যগণ"কে সাক্ষীসহ উপস্থিত লোকজনের সম্মুখে জিজ্ঞাসাবাদে পূর্বে বিভিন্ন সময়ে পঞ্চগড় জেলার বিভিন্ন স্থানে ডাকাতি সংঘটিত করেছে মর্মে অকপটে স্বীকার করে। ধৃত আসামীগন পরস্পর যোগসাজসে অবৈধভাবে দেশীয় অস্ত্র ও ডাকাতি সরঞ্জামাদিসহ ডাকাতি সংঘটনের উদ্দেশ্যে সমবেত হয়ে ডাকাতির প্রস্তুতি গ্রহন করায় পঞ্চগড় জেলার সদর থানায় একটি নিয়মিত মামলা রুজুপূর্বক গ্রেফতারকৃত আসামীগণকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়।