স্টাফ রিপোর্টার,
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণ ভোট উপলক্ষে লালমনিরহাট জেলায় নিরাপত্তা ও শান্তি শৃঙ্খল পরিবেশ বজায় রাখতে
সেনা বাহিনী কর্তৃক নিরাপত্তা বলয় তৈরি হয়েছে। লালমনিরহাট জেলার
তিন টি আসনে সুষ্ঠু অংশগ্রহণমূলক
নির্বাচন সফল করতে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার সহ সেনাবাহিনীর ঊধ্বর্তন কর্মকর্তারা নিরলসভাবে মাঠে স্ব স্ব অবস্থান থেকে কাজ করছেন। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণ ভোট সুসম্পন্ন করতে সেনা বাহিনীর বিশেষ ক্যাম্প লালমনিরহাট কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিসিসি) তে স্থাপন করা হয়েছে। জাতীয় নির্বাচন ও গণ ভোটের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সফল করতে লালমনিরহাট টিটিসি তে স্থাপিত বিশেষ সেনা ক্যাম্প থেকে পুরো জেলার নির্বাচন পরিস্থিতি নজরদারি করা হচ্ছে।
অপর দিকে লালমনিরহাট টিটিসি তে সেনা ক্যম্প স্থাপন করার বিষয় টি টিটিসির পাঁচ শতাধিক প্রশিক্ষণার্থী দের মধ্যে জানাজানি হওয়ার পর থেকে তাদের মধ্যে হতাশা ও নিরাশাজনক পরিস্থিতি সৃষ্টির বিষয় টি ফুটে উঠেছিলো।
অবশেষে লালমনিরহাট টিটিসি'র অধ্যক্ষ প্রকৌশলী মোঃ আইনুল হক
জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত আবেদন করে প্রশিক্ষণ চলমান রাখার বিষয়ে অনুরোধ করেছেন বলে জানা যায়। লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক, সেনাবাহিনীর ঊধ্বর্তন কর্মকর্তারা টিটিসির অধ্যক্ষের সাথে আলোচনা করে সার্বিক দিক বিবেচনা করে প্রশিক্ষণ চলমান রাখার অনুমতি প্রদান করেছেন। লালমনিরহাট টিটিসি তে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়,,,
মূল একাডেমিক ভবনের বাইরে
বিভিন্ন ট্রেডের প্রশিক্ষনার্থীরা ক্লাস করছেন। বর্তমান প্রেক্ষাপটে টিটিসির ভেতরে ও বাইরে প্রশিক্ষণ মেলার মতো সুন্দর পরিবেশ বিরাজমান। বিভিন্ন ট্রেডের প্রশিক্ষনার্থী দের সাথে কথা বলে জানা যায়, " সেনা ক্যাম্প স্থাপন করার সংবাদ জেনে আমার টেনশনে ছিলাম কারণ প্রশিক্ষণ গ্রহণ ছাড়া NSDA কর্তৃক পরিক্ষা নিয়ন্ত্রিত হওয়ায় পাশ করা সম্ভব নয়, তবে আমাদের অধ্যক্ষ স্যারের
দুরদর্শিতায় সব গুলো ট্রেডের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে,
আমরা সবাই শৃঙ্খলার সাথে আইডি কর্ড গলায় ঝুলিয়ে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে পেরে অনেক খুশি।
লালমনিরহাট টিটিসি তে বিভিন্ন ট্রেডের প্রশিক্ষক দের মতামত জানতে চাইলে তারা বলেন,, অতীতে সাবেক অধ্যক্ষের সময় নির্বাচন উপলক্ষে লালমনিরহাট টিটিসি তে সেনা ক্যাম্প স্থাপিত হয়েছে সেই সময় পুরোপুরি প্রশিক্ষণ বন্ধ ছিলো, যার ফলে অসংখ্য প্রশিক্ষনার্থী পরবর্তী তে পরীক্ষায় পাশ করতে না পেরে হতাশ হয়ে ফিরে গেছেন। এবারও আমরা সংশয়ে ছিলাম। বিভিন্ন ট্রেডের তিন মাসের প্রশিক্ষণ গ্রহণ হুটকরে বন্ধ হলে লালমনিরহাট জেলার পাঁচ শতাধিক প্রশিক্ষণার্থী ক্ষতির সম্মুখীন হতো। বর্তমান অধ্যক্ষ প্রকৌশলী মোঃ আইনুল হক স্যার প্রশিক্ষণ চলমান রাখার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় টি চলমান রাখতে সচেষ্ট হয়েছেন।প্রশিক্ষণ চলমান রাখার বিষয় নিয়ে লালমনিরহাট টিটিসি'র অধ্যক্ষ প্রকৌশলী মোঃ আইনুল হক এর কাছে সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, " জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং গণ ভোট আমাদের জাতির জন্য অন্তত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, লালমনিরহাট টিটিসি তে সেনা ক্যাম্প স্থাপন হওয়া গৌরবের বিষয়। আমি আমার প্রশিক্ষক ও স্টাফ দের সাথে নিয়ে সেনা বাহিনীর
সকল সুযোগ সুবিধা শতভাগ নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। দীর্ঘ দুই বছর থেকে দেশের শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষা করতে সেনা বাহিনী খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করে দেশের জন্য নিরলসভাবে পরিশ্রম করছেন। তাদের প্রতি আমাদেরও দায়িত্ব রয়েছে, সেই দৃষ্টি ভঙ্গি থেকে লালমনিরহাট টিটিসি তাদের পাশে রয়েছে। অপর দিকে লালমনিরহাট টিটিসি তে বিভিন্ন ট্রেডের পাঁচ শতাধিক প্রশিক্ষণার্থী রয়েছে তাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা চলমান রাখতে জেলা প্রশাসক মহোদয় এবং সেনা বাহিনীর উর্ধতন কর্মকর্তা দের উদারতার কারণেই প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা চলমান রয়েছে। প্রশিক্ষণ চলমান রাখতে প্রতিটি ট্রেডের প্রশিক্ষক ও প্রশিক্ষনার্থী এমনকি প্রতিষ্ঠানের কর্মরত স্টাফ দের কে
আইডি কার্ডের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
লালমনিরহাট টিটিসি তে সেনা ক্যাম্প স্থাপন থাকা অবস্থায় সুশৃঙ্খল ভাবে সবাইকে প্রতিষ্ঠানে প্রবেশ ও প্রস্থান করার বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। সবাই আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে সুশৃঙ্খল ভাবে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করছে। লালমনিরহাট টিটিসি'র অধ্যক্ষ প্রকৌশলী মোঃ আইনুল হক বলেন,, " অতীতে সেনা ক্যাম্প স্থাপন করার পর প্রশিক্ষণ গ্রহণ বন্ধ হওয়ার বিষয় টি জেনেছি কিন্তু আমার অবস্থান থেকে জেলা প্রশাসক মহোদয় এবং সেনা বাহিনীর উর্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে প্রশিক্ষণের গুরুত্ব এবং প্রশিক্ষণার্থী দের পরিক্ষার বিষয় নিয়ে আলোচনা করার পর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করার অনুমতি পাওয়া সম্ভব হয়েছে। লালমনিরহাট টিটিসি তে দ্বিতীয় একাডেমিক ভবন থাকলে
খোলা আকাশের নিচে, গাছতলায় প্রশিক্ষণ প্রদান করা লাগতো না।
অধ্যক্ষ প্রকৌশলী মোঃ আইনুল হক বলেন, প্রশিক্ষণ চলমান রাখতে জেলা প্রশাসক মহোদয় এবং সেনা বাহিনীর উর্ধতন কর্তৃপক্ষের ইতিবাচক ভুমিকা শ্রদ্ধা এবং কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করছি।