
হাফিজুর রহমান কালীগঞ্জ(সাতক্ষীরা) প্রতিনিধিঃ
সাতক্ষীরার কালীগঞ্জে গভীর রাতে দরজা ভেঙে বাসায় ঢুকে ধারালো অস্ত্রের মুখে শিশু বাচ্চাদের জিম্মি,হত্যার ভয় দেখিয়ে বাসায় পুরুষ শূন্য থাকার সুযোগে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার লুট শেষে গৃহকর্ত্রীকে উপর্যপুরী ধর্ষণ করে।
কাউকে জানালে হত্যার হুমকি দিয়ে পালিয়ে যায় চোরচক্রের সদস্যরা। গত মঙ্গলবার (১৪ আগস্ট) রাত দেড়টার দিকে সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার মথুরেশপুর ইউনিয়নের দেয়া গ্রামে ভারতে অবস্থানরত নুর আলম গাজীর বাড়িতে দুর্ধর্ষ চুরি ও ধর্ষণের ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী চোর শনাক্ত করে ৩ জনের বিরুদ্ধে গত শনিবার রাতে নারী ও শিশু নির্যাতন,ধর্ষণ
চুরি ও ভয়ভীতি হুমকি প্রদানের অভিযোগ করলেও এখনো মামলা রেকর্ড করেনি পুলিশ। মামলায় দেয়া গ্রামের মনুর পুত্র সাইফুল ইসলাম ওরফে দুঃখে (২৬),
আমিনুল ইসলামের পুত্র আলী হাসান ওরফে পাঁচ ছাবাল(২০) এবং একই গ্রামের আব্দুস সালামের পুত্র আলামিনকে(২২)
আসামি করা হয়েছে। তবে এরা সবাই এলাকার চিহ্নিত মাদক সেবী এবং চোর চক্রের সদস্য। সোমবার বেলা
১১ টার দিকে সরে জমিনে ঘটনাস্থলে গেলে ভুক্তভোগী গৃহ কর্ত্রী সাংবাদিকদের জানান তার স্বামী নুরুল আলম গাজী দীর্ঘদিন যাবত শ্রমিকের কাজ করতে ভারতে অবস্থান এবং বড় পুত্র ইব্রাহিম যশোর পলিটেকনিক্যাল কলেজে পড়াশোনার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে
গত মঙ্গলবার রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে মুখোশধারী চোর চক্রের ৩ সদস্য ঘরের দরজা ভেঙে, খুলে দু,জন ভিতরে প্রবেশ করে।
ওই সময় ঘুমন্ত ৩ শিশু সন্তানকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে হত্যার ভয় দেখিয়ে কানের দুল, স্বর্ণালংকার ও নগদ অর্ধ লক্ষ্য টাকা লুট করে গামছা দিয়ে মুখ বেঁধে উপর্যপুরী ধর্ষণ করে। ঐ সময় ধর্ষণের ঘটনা কাউকে জানালে শিশু সন্তানদের হত্যার হুমকি দিয়ে একটি গামছা ফেলেপালিয়ে যায়।
পরে আমার ডাক চিৎকারে আশেপাশের লোকজন ছুটে আসে। সকালে স্থানীয় ইউপি সদস্য কলিম গাজী, নজিবর রহমান,
সাঈদ সহ গ্রামবাসীরা এসে থানায় জানানোর কথা জানান। আমি নিজ এবং পরিবারের মানসম্মানের ভয়ে কাউকে কিছু জানায়নি।
গত শনিবার আমার স্বামীর ভাই হায়দারের বাড়ি গেলে চোর ও ধর্ষক সাইফুল ইসলামকে চিনতে পেরে সনাক্ত করলে স্থানীয়রা তাকে মাদকাসক্ত ও পাগল বলে ছেড়ে দেয়। ঐ সময় জনরোষ থেকে রক্ষা পেয়ে পরের দিন আমি কাউকে কিছু বললে এবং
থানা পুলিশকে জানালে আমার সন্তান দের পুনারায় হত্যার হুমকি দেয় ঐ চক্রের সদস্যরা। তখন আমি উপায়ান্তর না পেয়ে শনিবার রাতে থানায় গিয়ে অভিযোগ দিলে রবিবার সকালে থানা পুলিশ বাড়িতে এসে জিজ্ঞাসাবাদ তদন্ত করলেও আসামিদের বিরুদ্ধে এখনো কোনো মামলা হয়নি।
এ ব্যাপারে স্থানীয় মথুরেশপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাকিমের নিকট জানতে চাইলে তিনি এ প্রতিনিধিকে জানান স্থানীয় ইউপি সদস্য কলিম গাজী ঘটনাটি আমাকে জানানোর পরপরই তাদেরকে থানায় অভিযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে ঘটনার সত্যতা জানার জন্য থানার অফিসার্স ইনচার্জ শাহিনুর রহমানের নিকট জানতে চাইলে
তিনি এ প্রতিনিধিকে জানান টাকা-পয়সা লেনদেন সংক্রান্ত এবং চুরির অভিযোগ দিয়েছে তবে চুরি ও ধর্ষণের বিষয়টি তদন্ত করে সত্যতা মিললে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।






