
কবির হোসেন রাকিব (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধিঃ
লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে একটি স্বর্ণের দোকানের সার্টারের তালা ভেঙে সিন্দুক চুরি করে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ঘটনাস্থলে দায়িত্বপ্রাপ্ত নৈশপ্রহরী ফরিদের (৪৪) রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার হয়েছে চাঁদপুরের হাজিগঞ্জে। ধারণা করা হচ্ছে চুরির ঘটনা দেখে ফেলায় তাকে উঠিয়ে নিয়ে হত্যার পর মরদেহ ফেলে রেখে যাওয়া হয়।
শুক্রবার (১ মে) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টায় রামগঞ্জ পৌর শহরের পাট বাজারে নিউ আপন শিল্পালয়ে এ ঘটনা ঘটে। সকালে রামগঞ্জ-হাজীগঞ্জ সড়কের পাশ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত ফরিদ রামগঞ্জ পৌরসভার মিজি বাড়ির মোঃ শাহাজাহানের ছেলে। তিনি রামগঞ্জ বাজারের নৈশপ্রহরী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। রামগঞ্জ পুলিশ বক্স থেকে পাটবাজার পর্যন্ত তার দায়িত্বরত এলাকা ছিল।
বাজারের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে স্থানীয়রা জানায়, এটি চুরি নয়, ডাকাতির ঘটনা। সাদা মাইক্রো নিয়ে তারা ডাকাতি করতে এসেছে। ধারণা করা হচ্ছে, তাদের ডাকাতির ঘটনা দেখে ফেলায় ফরিদকে ধরে নিয়ে যায়। পরে তাকে হত্যা করে মরদেহ হাজীগঞ্জ রাস্তার পাশে ফেলে রেখে গেছে।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী রূপন শীল বলেন, আমি ব্যবসা করে পরিবার নিয়ে কোন রকম ডাল ভাত খাই। আমার অঢেল টাকা নেই। ব্যবসাও ভালো যাচ্ছে না। এখন আমার দোকানের সার্টারের তালা ভেঙে চুরি করা হয়েছে। চোরের দল আমার স্বর্ণ ও রূপার অলংকারসহ সিন্দুকটি নিয়ে গেছে। আমাকে শেষ করা দিয়ে গেছে। আমি একেবারে নিঃস্ব হয়ে গেছি। আমার প্রায় ৩০লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
চাঁদপুর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পরিদর্শক ইমারত হোসেন বলেন, সকালে অজ্ঞাত হিসেবে ফরিদের মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। পরে তার পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়। তার বাড়ি রামগঞ্জে। নিহতের পরিবারকে হাজীগঞ্জ থানায় যোগাযোগের পরামর্শ দেন তিনি।
রামগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, চুরির ঘটনায় ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। কত টাকার মালামাল চুরি হয়েছে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ ঘটনায় তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ফরিদের লাশ উদ্ধার নিয়ে থানার ওসি বলেন, হাজীগঞ্জ রাস্তার পাশ থেকে ফরিদের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে শুনেছি। সেখানে তার ময়নাতদন্ত হবে। সেখানে মামলা হবে। এ ছাড়া আমরা বাজারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করার চেষ্টা করছি। ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।







