খাদেমুল ইসলাম জেলা প্রতিনিধি পঞ্চগড়! পঞ্চগড়ের
তেতুলিয়া উপজেলার ১ নং বাংলাবান্ধা
ইউনিয়নের পরিষদে মধ্যে
এক ইউপি সদস্যকে ডেকে আনে বেধড়ক পিটিয়ে গুরুতর আহত করেছে সন্ত্রাসীরা । আহত হাসিবুল ইসলাম ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে গত ১৭ জুলাই রাত প্রায় ৮টার দিকে ইউনিয়ন পরিষদের হলরুমে ইউপি সদস্যদের বৈঠক চলাকালে ৯ জনের একটি সন্ত্রাসী দলের নেতৃত্বে ১৫ থেকে ২০ জনের একটি দল সেখানে প্রবেশ করে। তারা অনলাইনে টেন্ডার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের কারণ জানতে চেয়ে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ইউপি সদস্য হাসিবুল ইসলামের ওপর অতর্কিত সন্ত্রাসী হামলা চালানো হয়।
ঘটনায় ৯ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ১৫ থেকে ২০ জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করে তেঁতুলিয়া মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় হত্যাচেষ্টা, চাঁদাবাজি, হামলা, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও ইউনিয়ন পরিষদ সূত্রে জানা যায়, নতুন অর্থবছরের ইজারা কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে বাংলাবান্ধা ইউনিয়ন পরিষদ প্রথমবারের মতো অনলাইনের মাধ্যমে উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বানের সিদ্ধান্ত নেয়। অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে ইজারা কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় একটি সন্ত্রাসী গ্রূপএ সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, হামলাকারীরা তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে, গলা চেপে ধরে হত্যার চেষ্টা করে, বাঁশের লাঠি দিয়ে মাথায় আঘাত করে এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম করে। একপর্যায়ে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনও ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পরে স্থানীয়রা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে তাকে উদ্ধার করে তেঁতুলিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য পঞ্চগড় জেলা আধুনিক সদর হাসপাতালে রেফার করেন। এব্যাপার
আহত ইউপি সদস্য হাসিবুল ইসলাম বলেন,
"অনলাইন দরপত্র বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের জেরে মিজানুর, ওবায়দুল, মাহফুজসহ ১০ থেকে ১৫ জন আমাকে ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে গিয়ে মারধর করেছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।"
অন্যদিকে, অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। তারা উল্টো ইউপি সদস্য হাসিবুল ইসলামের বিরুদ্ধে ঘুষের অভিযোগ তুলেছেন।
এবিষয়ে বাংলাবান্ধা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মহসিন আলী বলেন,
"আমাদের একজন ইউপি সদস্যের ওপর সন্ত্রাসী কায়দা হামলার করা হয়েছে। ঘটনা অত্যন্ত নিন্দা দায়ক । আমরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাই। এবিষয়ে
বাংলাবান্ধায় ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক মো. নবীউল কারিম সরকার বলেন,আগামীকাল থেকে আমার প্রশিক্ষণ রয়েছে। প্যানেল চেয়ারম্যান দায়িত্বে আছেন। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে
তেঁতুলিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লাইছুর রহমান বলেন,
"ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ফাহমিদা সুলতানা বলেন,
"বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজ নেওয়া হয়েছে। আহত ইউপি সদস্য হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাকে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।"
মামলায় যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে তারা হলেন— ওবায়দুল হক, মাহাফুজ, মিজানুর রহমান, মির্জা, রুবেল, মিজানুর, নকিবুল ইসলাম, আরিফ ও মেহেদী হাসান সাব্বির। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ১৫ থেকে ২০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
এদিকে, অনলাইন টেন্ডারকে কেন্দ্র করে চাঁদাবাজি ও হামলার এ অভিযোগে পুরো এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন স্থানীয়রা।