অসমাপ্ত বাক্য
হয়তো না-পাওয়ার মাঝেই জন্ম নেয় কিছু ব্যথা,
বন্ধ দরজার ফাঁক গলে ঢুকে পড়ে শীতল হাওয়া।
বুকের ভেতর নীরব হয়ে বসে থাকে সে—
না বলা কথার মতো, ক্লান্ত দীর্ঘশ্বাসে।
আর পাওয়ার মুহূর্তে আনন্দ থাকে ক্ষণিক,
মুঠোভরা সুখ ঝরে পড়ে অজান্তেই অনিক।
আঙুলের ফাঁক গলে যায় চেনা উষ্ণতা,
থেকে যায় শুধু তার ছায়া—আর শূন্যতা।
আমরা তাই হিসাব করি—কি পেলাম, কি হারালাম,
ভুলে যাই মাঝখানেই দিনগুলো যে চললাম।
পাওয়া-হারানোর ফাঁকে, নীরব এক জীবনে,
সত্যিকারের দিনগুলো বেঁচে থাকে গোপনে।
তুমি নেই—এ শূন্যতা কোনো অভাব নয়,
এ এক অদ্ভুত উপস্থিতি—ভারী অথচ ক্ষয়।
প্রতিটি নিঃশ্বাস এসে থামে নামের কাছে,
ডাকে না, তবু ডাকের মতো বুকের ভেতর বাজে।
ভালোবাসা আর পাওয়া-না পাওয়ার গল্প না,
এ এখন দূরত্বের ভাষা—নীরব, অথচ ভরা।
স্পর্শ নেই, তবুও ছায়ারা হাঁটে সারাদিন,
রোদ্দুর ছুঁয়ে ফেলে মনে—হয় না বিলীন।
যে আনন্দ একদিন ছিল আলোর মতো ঝলমল,
আজ সে কেবল স্মৃতি—অন্ধকারে ভঙ্গুর ফল।
হাত বাড়ালেই ভেঙে যায় কাঁচের মতো সুখ,
তবু তার দিকেই ফেরে ক্লান্ত হৃদয়-মুখ।
তুমি নেই—এ কথাটা এখন আর শূন্য নয়,
এ এক ভারী ওজন—দিনগুলো ঢলে পড়ার ভয়।
সন্ধ্যার দিকে হেলে যায় সময়ের শরীর,
নিঃশব্দে দীর্ঘ হয় প্রতিটি ক্ষণ, প্রতিটি নীর।
ভালোবাসা এখন উচ্চারণ নয়—অভ্যাসের মতো,
চা ঠান্ডা হওয়ার সময়, জানালার দিকে চাওয়াতো।
হঠাৎ কোনো গন্ধে নিজেকে হারানো,
স্মৃতির ভেতর ধীরে ধীরে ডুবে যাওয়া—অজানা জানানো।
তোমার অনুপস্থিতি এক দীর্ঘ বাক্য যেন,
ফুলস্টপ নেই—চলতেই থাকে অনন্তক্ষণ।
আমি পড়ে যাই বারবার, শেষ না জেনেই,
এই অসমাপ্ত ভালোবাসার ভাষা মেনেই।
যে আলো একদিন ছিল, আজ ভাঙা কাঁচে আটকে,
শেষ বিকেলের রোদ এসে কাঁপে ফাঁকে ফাঁকে।
তবু আমি তোমাকেই ভালোবাসি আজও,
কারণ কিছু প্রেম হারিয়েই সম্পূর্ণ হও।
তুমি নেই—এ কথা আমি কাউকে বলি না আর,
সবাই বোঝে না—কেমন করে অনুপস্থিতিও ঘর।
সকাল আসে, তবু কোথাও পৌঁছায় না পথ,
কফির কাপ ঠান্ডা হয়, শব্দও হারায় রথ।
জানালায় লিখি না নাম, তবু রয়ে যাও,
প্রতিটি আঙুলের ছাপে নীরবে জড়িয়ে যাও।
ভালোবাসা উৎসব নয়—অপেক্ষার মতো,
তারিখহীন সময়ে সে বসে থাকে নিরত।
একদিন আনন্দ ছিল উজ্জ্বল আলোর গান,
আজ সে স্মৃতিতে নরম, পুরোনো সুরের টান।
বাজে না, তবু মাথার ভেতর চলে অনবরত,
নীরবতার ভেতর দিয়ে বয়ে যায় অবিরত স্রোত।
তোমার অনুপস্থিতি শিখিয়েছে ধীর ভাষা,
মানুষের কথার ফাঁকে শুনি না বলা আশা।
সেই ফাঁকেই তুমি থাকো—অসমাপ্ত স্পর্শ,
নীরব ভালোবাসার চিহ্ন—গভীর অথচ স্বচ্ছ।
তবু আমি তোমাকেই ভালোবাসি নির্দ্বিধায়,
কারণ কিছু প্রেম চায় না কাছে-পাওয়ার ছায়া।
তারা শুধু জায়গা নেয় শ্বাসে, নীরবতায়,
আর সেইসব রাতে—যখন নিজেকেই পাই।