আমির হোসাইন
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি:
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার যাদুকাটা নদীর পাঠানপাড়া-মিয়ারচর খেয়াঘাটে মালামাল পারাপারে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির প্রতিবাদে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (১০ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার বাদাঘাট ইউনিয়নের বাদাঘাট বাজার বণিক সমিতি, ভুক্তভোগী জনগণ ও শ্রমিকদের উদ্যোগে এ মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে বাজারের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এবং বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন বাদাঘাট বাজার বণিক সমিতির সভাপতি নজরুল ইসলাম সিকদার, সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশিদ, কোষাধ্যক্ষ মাওলানা মোখলেসুর রহমান, বিএনপি নেতা রফিকুল ইসলাম, আমির শাহ, উত্তর বড়দল ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি হেলু মিয়া, ব্যবসায়ী জুবায়ের আহমদ, সাজ্জাদ হোসেন ও শ্রমিক রহম আলীসহ অনেকে।
বক্তারা অভিযোগ করেন, যাদুকাটা নদীর পাঠানপাড়া-মিয়ারচর খেয়াঘাটে মালামাল পারাপারের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হচ্ছে। একই ঘাটে জেলা পরিষদের নামে এবং দেবোত্তর স্টেটের নামে পৃথকভাবে টোল আদায় করায় ব্যবসায়ী, শ্রমিক ও সাধারণ মানুষকে বাড়তি অর্থ গুনতে হচ্ছে। এতে বাদাঘাট বাজারের ব্যবসায়ীদের মালামাল পরিবহনসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।
বক্তারা আরও বলেন, প্রায় এক মাস ধরে এ সমস্যা চললেও সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষ কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। দ্রুত এ সমস্যার সমাধান এবং ঘাটে অতিরিক্ত অর্থ আদায় বন্ধের দাবি জানান তারা। অন্যথায় পরবর্তীতে আরও কঠোর কর্মসূচি নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা।
মানববন্ধন শেষে ব্যবসায়ী ও শ্রমিকদের একটি দল মিয়ারচর খেয়াঘাটে গিয়ে ঘাট পরিচালনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুই পক্ষের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় সাবেক চেয়ারম্যান তারা মিয়া সেখানে উপস্থিত হয়ে উভয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেন এবং বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নেন।
আলোচনার পর সাময়িকভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে উভয় পক্ষ সম্মত হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আপাতত ঘাটে টাকা আদায়ের দায়িত্ব তৃতীয় একটি পক্ষের কাছে থাকবে। আগামী ১৫ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে প্রশাসনের মাধ্যমে ঘাটের বৈধতা ও টোল আদায়ের বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ সময় পর্যন্ত আদায় করা অর্থ জমা থাকবে এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে যাকে বৈধভাবে দায়িত্ব দেওয়া হবে, তার কাছেই ওই অর্থ হস্তান্তর করা হবে বলে জানানো হয়।
আলোচনায় উপস্থিত উভয় পক্ষ এ সিদ্ধান্তে সম্মতি জানালে সাময়িকভাবে বিরোধের সমাধান হয়। তবে ঘাটের টোল আদায়ের বৈধতা ও স্থায়ী সমাধানের জন্য প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও ভুক্তভোগীরা।