উলিপুর (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি
কুড়িগ্রামের উলিপুরে এক নারীর গোসলের ভিডিও গোপনে ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ব্ল্যাকমেইল ও ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে এক যুবকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী আদালতে নালিশ করেছেন। অভিযোগের তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে।
অভিযোগপত্র সূত্রে জানা যায়, উলিপুর উপজেলার ভেলুর খামার দুর্গাপুর এলাকার ২৩ বছর বয়সী এক নারী অভিযোগ করেন, একই এলাকার মো. আনারুল ইসলাম (৩০) গোপনে গোসলখানায় ক্যামেরা স্থাপন করে তার অজান্তে গোসলের ভিডিও ধারণ করেন। পরে ওই ভিডিও ও নগ্ন ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তাকে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনে বাধ্য করার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়, অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রথমে ভুক্তভোগীকে ভিডিও ও ছবি মুছে দেওয়ার কথা বলে আরও একটি ভিডিও পাঠাতে বলেন। সরল বিশ্বাসে তিনি দ্বিতীয় একটি ভিডিও পাঠালেও অভিযুক্ত ব্যক্তি তা মুছে না দিয়ে পুনরায় শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের জন্য চাপ দিতে থাকেন। পাশাপাশি ভিডিওগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, গত ৮ জুলাই বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ভুক্তভোগীর বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তি পূর্বপরিকল্পিতভাবে ঘরে প্রবেশ করেন। পরে দরজা বন্ধ করে তাকে জাপটে ধরে খাটে শুইয়ে ধারালো ছুরি দেখিয়ে হত্যার হুমকি দেন এবং তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধর্ষণের চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করেন ওই নারী।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, তিনি বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে চিৎকার করলে হত্যা এবং বিষয়টি পুলিশকে জানালে তার গোসলের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন অভিযুক্ত ব্যক্তি। পরে তিনি বিষয়টি কাউকে জানাননি। পরবর্তীতে অভিযুক্ত ব্যক্তি আবারও মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলে ফোন কেটে দেন তিনি। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি তাকে ও তার পরিচিত একজন সাক্ষীকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিতে থাকেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে বিষয়টি স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনকে জানান ভুক্তভোগী। স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও তা ব্যর্থ হয় বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীর দাবি, গত ১৪ জুলাই থানায় অভিযোগ দিতে গেলে তাকে আদালতের সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালে নালিশ করার পরামর্শ দেওয়া হয়। পরে গত ২৩ জুলাই আদালতে নালিশ দায়ের করেন তিনি। নালিশে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯(১) ধারা এবং পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে।
ভুক্তভোগীর স্বামী বলেন, ‘ঘটনার পর থেকে আমরা নিরাপত্তাহীনতায় আছি। অভিযুক্ত পক্ষের লোকজন এখনো আমাদের বিভিন্নভাবে হুমকি-ধামকি দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছি। আমরা সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনগত প্রতিকার চাই।’
তবে অভিযোগে উত্থাপিত বিষয়গুলোর সত্যতা এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। অভিযুক্ত মো. আনারুল ইসলামের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তা পাওয়া যায়নি। অভিযোগের বিষয়ে তদন্তের পর প্রকৃত ঘটনা ও আইনগত ব্যবস্থা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।