মোঃআব্দুল গফুর সিকদার
মনপুরা (ভোলা) প্রতিনিধি:
ভোলার মনপুরায় মিয়ানমারে (বার্মা) পাচারের উদ্দেশ্যে নেওয়া একটি সমুদ্রগামী ট্রলারসহ বিপুল পরিমাণ সিমেন্ট, সার জব্দ করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড ও পুলিশের যৌথ দল। এ সময় এক পাচারকারীকে আটক করা হলেও ট্রলারের দুই মালিকসহ কয়েকজন সহযোগী পালিয়ে যান।
রোববার (৫ জুলাই) বিকেলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেন বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন।
তিনি জানান, গত ৪ জুলাই (শনিবার) রাত সাড়ে ৩টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কোস্ট গার্ড আউটপোস্ট মনপুরা ও মনপুরা থানার পুলিশের সমন্বয়ে উপজেলার উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নের লতাখালী ঘাটসংলগ্ন এলাকায় যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের সময় একটি সন্দেহভাজন ফিশিং বোটে তল্লাশি চালিয়ে মিয়ানমারে পাচারের উদ্দেশ্যে বহন করা প্রায় ২ লাখ ২৯ হাজার টাকা মূল্যের ৪৫০ বস্তা সিমেন্ট, ৪ বস্তা ডিএপি (DAP) সার এবং পাচারকাজে ব্যবহৃত ফিশিং বোটটি জব্দ করা হয়। এ সময় উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. জহিরের ছেলে মো. জুয়েল (২২)-কে আটক করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, অভিযানের সময় ট্রলারের মালিক ইদ্রিস মাঝি, রিয়াজসহ কয়েকজন সহযোগী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যান। তাদের বিরুদ্ধে মনপুরা থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
অভিযানের পর জব্দ করা ট্রলারটি হাজিরহাট ঘাটে নিয়ে পুনরায় তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় ট্রলার থেকে প্রায় ৪০০ লিটার ডিজেল এবং বিপুল পরিমাণ চাল উদ্ধার করা হয়। রোববার সকাল থেকে জব্দকৃত ট্রলার থেকে মালামাল খালাসের কার্যক্রম চলছিল।
এ ঘটনায় রোববার (৫ জুলাই) সকালে আটক ব্যক্তি ও পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে মনপুরা থানায় মামলা দায়ের করা হয়। পরে আটক মো. জুয়েলকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মনপুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজাহারুল ইসলাম বলেন, “পুলিশ ও কোস্ট গার্ডের যৌথ অভিযানে মিয়ানমারে পাচারের উদ্দেশ্যে নেওয়া একটি ট্রলারসহ বিপুল পরিমাণ সিমেন্ট, সার, চাল ও ডিজেল জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে এবং পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন বলেন, “উপকূলীয় এলাকায় চোরাচালান ও আন্তঃসীমান্ত পাচার প্রতিরোধে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের নিয়মিত অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। দেশের জলসীমায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ও চোরাচালান প্রতিরোধে কোস্ট গার্ড সর্বদা সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।”