জাহিদ হোসেন, স্টাফ রিপোর্টার-খুলনা
বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ঐতিহাসিক জেলা বাগেরহাট মধ্যযুগীয় ইসলামী স্থাপত্য ও সংস্কৃতির এক অনন্য নিদর্শন হিসেবে সুপরিচিত। এই অঞ্চলের ইতিহাস জড়িয়ে আছে প্রখ্যাত সুফি সাধক ও সমাজসংস্কারক হযরত খান জাহান আলী-এর নামের সঙ্গে। তিনি ১৫শ শতকে এ অঞ্চলে এসে বসতি স্থাপন, ইসলাম প্রচার এবং একটি সমৃদ্ধ জনপদ গড়ে তোলার উদ্যোগ নেন।
তার উদ্যোগে বাগেরহাটে নির্মিত হয় বহু মসজিদ, দিঘি, সড়ক ও বিভিন্ন স্থাপনা। এর মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত হলো ষাটগম্বুজ মসজিদ। ধারণা করা হয়, ১৫শ শতকের মাঝামাঝি সময়ে নির্মিত এই মসজিদটি ছিল সে সময়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ও প্রশাসনিক কেন্দ্র। মসজিদটির ছাদে ৭৭টি গম্বুজ এবং চার কোণায় চারটি বড় গম্বুজ রয়েছে, যা একে অনন্য স্থাপত্য বৈশিষ্ট্য প্রদান করেছে।
বাগেরহাটে শুধু মসজিদই নয়, অসংখ্য বড় বড় দিঘিও খনন করা হয়েছিল। এসব দিঘির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো খান জাহান আলীর দিঘি, যা স্থানীয় মানুষের পানির চাহিদা পূরণ এবং পরিবেশ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করত। সেই সময়ে পানীয় জল সংরক্ষণ, কৃষিকাজ এবং মানুষের দৈনন্দিন প্রয়োজনে এসব দিঘি খনন করা হয়েছিল।
ঐতিহাসিক মসজিদ, দিঘি ও অন্যান্য স্থাপনা নিয়ে গড়ে ওঠা বাগেরহাট অঞ্চলটি বর্তমানে ঐতিহাসিক মসজিদের শহর বাগেরহাট নামে পরিচিত। এর ঐতিহাসিক গুরুত্বের কারণে ১৯৮৫ সালে ইউনেস্কো এটিকে বিশ্ব ঐতিহ্য তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে।
আজও ষাটগম্বুজ মসজিদ ও বাগেরহাটের বিভিন্ন মসজিদ এবং দিঘি বাংলাদেশের সমৃদ্ধ ইতিহাস, সংস্কৃতি ও স্থাপত্য ঐতিহ্যের সাক্ষ্য বহন করে চলছে এবং দেশ-বিদেশের অসংখ্য দর্শনার্থীকে আকর্ষণ করছে।