
রাসেল মাহমুদ
হবিগন্জ জেলা প্রতিনিধি
ঝাড়ুদার পাসপোর্ট দেয়, প্রহরী দালালি করে, অপারেটর টাকা খায়, আর সাংবাদিকরা
হবিগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে অনেকদিন ধরেই যেন এক অভিনব সার্কাস চলছিল।
যেখানে ঝাড়ুদার উমেষ পাল এর কাজ ছিলো অফিস পরিষ্কার রাখা, সেখানে সে পাসপোর্ট বিতরণ করতো। যে পাসপোর্ট প্রত্যাশির স্লিপের মধ্যে ১০০ টাকা লুকানো থাকতো, তার ভাগ্য খুলতো দ্রুতই।
অনেকক্ষণ দাড়িয়ে থাকতে হতো না।
ঝাড়ুর কাঠি এক হাতে, আরেক হাতে পাসপোর্ট—এমন বহুমুখী প্রতিভা বোধহয় হবিগঞ্জ পাসপোর্ট অফিসেই দেখা যায়।
নিরাপত্তা প্রহরী উসমান গনির দায়িত্ব ছিল অফিস নিরাপদ রাখা। কিন্তু তিনি নিরাপত্তা বাদ দিয়ে নিজের ‘ভবিষ্যৎ’ নিরাপদ করায় ব্যস্ত ছিলেন।
জনগণের ভিড় সামলানোর নামে সোজা দালালি। অফিসে ঢোকার আগেই কার কত টাকায় কাজ হবে, তা তার মুখস্ত ছিল।
ডাটা এন্ট্রি অপারেটর লতিফা বেগমের নাম শুনলেই মানুষ বুঝে যেত—ডাটা নয়, টাকার এন্ট্রি হচ্ছে। কাগজপত্রের ভুল হলে সংশোধনের খরচ, আবার নামের বানান ঠিক হলে “কৃতজ্ঞতা ফি”—সব মিলিয়ে একেবারে ফুল প্যাকেজ সার্ভিস।
কিন্তু আসল মজাটা হলো—এই দালালি আর ঘুষের গল্প বহুদিন ধরে হবিগঞ্জের সাংবাদিকদের চোখের সামনে চলছিল। অথচ সমাজের “বিবেক” বলে পরিচিত কিছু সাংবাদিকও ছিলেন এই খেলায় শেয়ারহোল্ডার।
প্রতিবেদন করার বদলে দালালদের টাকা গিলে গিলে তাদের কলম শুকিয়ে যায়। ফলে সাধারণ মানুষ ভেবেছে—এটাই নিয়ম, এভাবেই পাসপোর্ট হয়।
শেষমেশ সেনাবাহিনী এসে অভিযান চালিয়ে এই নাটকের তিন অভিনেতাকে গ্রেপ্তার করলো।
তবে প্রশ্ন থেকে যায়—এমন অফিস-সার্কাস চলতেই থাকতো, যদি না কোনো দিন সেনাবাহিনীর গাড়ি হঠাৎ এসে হাজির হতো?
সত্যি বলতে, এ যেন হবিগঞ্জের নয়, পুরো সিস্টেমের ছবি—যেখানে ঝাড়ুদার পাসপোর্ট দেয়, প্রহরী দালালি করে, অপারেটর টাকা খায়, আর সাংবাদিকরা নির্লজ্জভাবে নীরবতার ব্যবসা চালায়।







