
মোঃ শান্ত খান বিশেষ প্রতিনিধি
সাভারের কুমকুমারী এলাকায় নারগিস আক্তার হত্যাকাণ্ডের প্রায় ১০ মাস পর অবশেষে গ্রেপ্তার হয়েছে মূল ঘাতক শাকিরুল ইসলাম। গ্রেপ্তারের পর সে স্বীকার করেছে—অবৈধ সম্পর্কের জেরে নিহতের স্বামী বিদ্যুৎ মণ্ডলের সহযোগিতায় এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে।
ঢাকা জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) সকালে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করে।
ডিবি জানায়, চলতি বছরের ২৭ জানুয়ারি কুমকুমারী এলাকার একটি ফাঁকা জায়গা থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক নারীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরদিন ২৮ জানুয়ারি আশুলিয়া থানায় হত্যা মামলা (নং-৬৮) দায়ের করা হয়। পরিচয় শনাক্ত ও তদন্তের অংশ হিসেবে ময়নাতদন্ত রিপোর্ট ও প্রযুক্তিগত অনুসন্ধানের ভিত্তিতে গত ৯ নভেম্বর গ্রেপ্তার করা হয় নিহতের স্বামী বিদ্যুৎ মণ্ডল (৩৭)-কে। জিজ্ঞাসাবাদে সে জানায়, তার ছোট বোনের স্বামী শাকিরুল ইসলাম এ হত্যায় সরাসরি জড়িত।
বিদ্যুতের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার রাতে রাজধানীর মিরপুরের দারুস সালাম থানার সংলগ্ন বড়বাজার এলাকায় অভিযান চালায় ডিবি। সেখানে একটি অটোরিকশা গ্যারেজ থেকে গ্রেপ্তার করা হয় অভিযুক্ত খুনি শাকিরুল ইসলামকে। সে জয়পুরহাটের পাঁচবিবি থানার সুকানপুকুর গ্রামের ওবাইদুল মণ্ডলের ছেলে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শাকিরুল জানায়, নিহত নারগিস তার ভাবী। তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে, যা পরবর্তীতে প্রেমে রূপ নেয়। নারগিস ঘর বাঁধার আশ্বাস দিলে শাকিরুলও তাকে ভালোবেসে ফেলে। তবে নারগিস একইসঙ্গে স্বামী বিদ্যুৎ ও শাকিরুলের সাথে সম্পর্ক বজায় রাখায় দু’জনের মধ্যেই ক্ষোভ ও মনোমালিন্য তৈরি হয়। একসময় বিদ্যুৎ পুরো ঘটনাটি জানতে পারে এবং ত্রিমুখী বিরোধ চরমে ওঠে।
এই মনোমালিন্যের জের ধরে বিদ্যুৎ ও শাকিরুল যৌথভাবে হত্যার পরিকল্পনা করে। বিদ্যুতের নির্দেশে ২৭ জানুয়ারি পরিকল্পনামাফিক শাকিরুল নারগিসকে হত্যা করে লাশ ফেলে পালিয়ে যায়। নিহত নারগিস আক্তার ছিলেন বিদ্যুৎ মণ্ডলের তৃতীয় স্ত্রী।
ঢাকা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক (ওসি) মো. জালাল উদ্দিন জানান, গ্রেপ্তারকৃতরা প্রাথমিকভাবে হত্যাকাণ্ডে তাদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে। তদন্তে যদি অন্য কারও জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়, তাদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।







