
মোঃ আতিক উল্লাহ চৌধুরী, চট্টগ্রাম প্রতিনিধি।
চট্টগ্রাম নগরীর নাসিরাবাদ জাকির হোসেন রোডে অবস্থিত লায়ন আই চক্ষু হাসপাতালে অনুষ্ঠিত হয়েছে বিনামূল্যের চক্ষু চিকিৎসা ও ছানি অপারেশনের ১১তম ধাপ।
লায়ন আই হসপিটালের উদ্যোগে, জ্যাকো ফাউন্ডেশন কানাডার সহযোগিতায় এবং আল মুসাইদাহ ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত এই ধাপে আরও ৪০ জন দৃষ্টিহীন মানুষ ফিরে পেয়েছেন তাদের চোখের আলো।
গত ৮, ৯ ও ১০ নভেম্বর ২০২৫— টানা তিনদিনব্যাপী এই ধাপের শেষ দিন ছিল সোমবার (১০ নভেম্বর)।
এদিন সকাল থেকেই হাসপাতালের পরিবেশে ছিল ব্যস্ততা ও প্রত্যাশার মিশ্র আবেগ।
অপারেশনের পর কেউ প্রথমবার দেখেছেন প্রিয়জনের মুখ, কেউ বহুদিন পর নতুন করে দেখেছেন আলো ঝলমলে পৃথিবী।
চোখের পর্দা উঠতেই কারও মুখে ফুটে উঠেছে অগাধ আনন্দের হাসি, কেউ কেঁদে ফেলেছেন কৃতজ্ঞতায়।
একজন বৃদ্ধ রোগী আবেগভরে বলেন,আল্লাহ তোমাদের ভালো রাখুন। তোমাদের কারণে আবার আলো দেখতে পারলাম।
সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত চলা এই কার্যক্রমে বিনামূল্যে চিকিৎসা, ছানি রোগী নির্বাচন, চশমা প্রদান, ওষুধ ও সানগ্লাস বিতরণ করা হয়।
মাঠ পর্যায়ে সার্বিক তদারকিতে ছিলেন আল মুসাইদাহ ফাউন্ডেশনের সহ-সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আবদুল কাদের রুবেল,সমাজকল্যাণ সম্পাদক ওমর ফারুক,
এবং সদস্য মোহাম্মদ ইউছুপসহ সংগঠনের অন্যান্য নিবেদিত সদস্যবৃন্দ।
অপারেশনের পরদিন যখন রোগীদের চোখের ব্যান্ডেজ খোলা হয়, তখন হাসপাতালের পরিবেশে ছড়িয়ে পড়ে আনন্দ ও আবেগের মিশ্র দৃশ্য।
কেউ কাঁদছেন, কেউ হাসছেন— সব মিলিয়ে যেন মানবতার উৎসব।একজন আয়োজক সদস্য বলেন,প্রতিটি হাসিমুখ, প্রতিটি আলো ফিরে পাওয়া চোখ আমাদের মনে করিয়ে দেয়—মানবসেবার চেয়ে মহৎ কাজ আর কিছু নেই।
দিনশেষে এই হাসিই আমাদের পুরস্কার, এই দোয়াই আমাদের প্রেরণা।চট্টগ্রামসহ আশপাশের বিভিন্ন উপজেলা থেকে আগত অসহায় ও দরিদ্র মানুষদের নিয়ে এ কার্যক্রম নিয়মিতভাবে পরিচালনা করছে আল মুসাইদাহ ফাউন্ডেশন।
দৃষ্টিহীন মানুষের জীবনে আলো ফিরিয়ে দিতে এই উদ্যোগ ইতোমধ্যে সমাজে মানবতার আলোকবর্তিকা হিসেবে প্রশংসিত হয়েছে।







