
খাদেমুল ইসলাম
পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি
পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে ঘরে ঢুকে এক নারীকে মারধর করে দাঁত ভেঙে ফেলা, ব্লেড দিয়ে মাথার চুল কাটা এবং যৌনাঙ্গে মরিচের গুঁড়ো ছিটিয়ে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় অভিযুক্তদের তিন জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গত ১০ আগস্ট রাতে দেবীগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নের চর সোনাপোতা আশ্রয়ণ প্রকল্প এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার (১২ আগস্ট) রাতে পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ থানায় ভুক্তভোগী কনিকা রায় ওরফে কুলসুম বেগম (৩৯) একটি মামলা দায়ের করেন।
মামলার অভিযুক্তরা হলেন- চর সোনাপোতা আশ্রয়ণ প্রকল্প এলাকার রাকিব ইসলাম (২৬), সোহেল রানা (২০), সাহেল খাতুন (৪০), সমসের আলী (২৮), আবুল হক (৫০) ও সুজন ইসলাম (১৯)। এ ছাড়া ৬ থেকে ৭ জনকে অজ্ঞাত আসামী করা হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, চর সোনাপোতা আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা ভুক্তভোগী কনিকা রায় ওরফে কুলসুম বেগম গত ১২ জুন হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। ধর্মান্তরিত হওয়ার পর দারগালী নামে এক ব্যক্তিকে বিয়ে করে একই আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরে দাম্পত্য জীবন শুরু করেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, ধর্ম পরিবর্তন ও বিয়ে মেনে নিতে না পেরে ঘটনার দিন সোমবার (১০ আগস্ট) রাতে অভিযুক্ত আসামিরা লাঠি ও লোহার রড নিয়ে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ঘরে প্রবেশ করে। প্রথমে গালিগালাজ করে কুলসুমের কাছ থেকে তার ধর্মান্তরিত হওয়া ও বিবাহের হলফনামা (অ্যাফিডেভিট) কেড়ে নিয়ে ছিঁড়ে ফেলে এবং তার ব্যবহৃত একটি স্মার্টফোন ছিনিয়ে নেয়। পরে অভিযুক্ত রাকিব ইসলাম লোহার রড দিয়ে কুলসুমের মুখে আঘাত করে তার দাঁত ভেঙে যায়। নির্যাতন চলাকালে সোহেল রানা ব্লেড দিয়ে ওই নারীর মাথার অর্ধেক চুল কেটে দেয় এবং কুলসুমের হাত-পা চেপে ধরে রাকিব ইসলাম যৌনাঙ্গে মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে দেয়। যন্ত্রণায় ওই নারী চিৎকার করতে থাকলে তার স্বামী বাঁচাতে এগিয়ে এলে তাকেও মারধর করা হয়।
হামলাকারীরা ঘরে থাকা ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের মালামাল ভাঙচুর ও লুটপাট করে। একইসঙ্গে ঘরে থাকা নগদ ৮৫ হাজার টাকা এবং ৬৬ হাজার টাকা মূল্যের ১১ মণ বাদাম চুরি করে নিয়ে যায়। ৩টি ফাঁকা নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে কুলসুমের স্বাক্ষর নেয়। পরে ভুক্তভোগী ও তার স্বামীর চিৎকার শুনে স্থানীয় প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে তাদের উদ্ধার করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় কুলসুম বেগমকে দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী বাদী হয়ে ৬ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আসামী করে দেবীগঞ্জ থানায় একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন।
ভুক্তভোগী নারীর স্বামী দারগালী বলেন, হঠাৎ করেই তারা আমাদের ঘরে প্রবেশ করে হামলা, মারধর সহ এ ঘটনাটি ঘটায়। আমরা এ ঘটনায় আসামীদের কঠোর বিচার দাবি করছি।
দেবীগঞ্জ থানার সেকেন্ড অফিসার প্রভাস চন্দ্র রায় বলেন, মামলা দায়েরের পর অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত ৩ আসামীকে বিভিন্ন স্থান থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পলাতক অপর অভিযুক্ত আসামীদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।






