
সাকিব আহসান
প্রতিনিধি, পীরগঞ্জ, ঠাকুরগাঁও
ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শাহজালাল সাজুর বিরুদ্ধে ষষ্ঠ শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার স্কুল চলাকালীন সময়ে এ ঘটনা ঘটে। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের এমন অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী।
ভুক্তভোগী ছাত্রী জানান, বৃহস্পতিবার সকালে বিদ্যালয় মাঠে ঘোরাঘুরি করার সময় ষষ্ঠ শ্রেণির কয়েকজন ছাত্রীকে নিজের কক্ষে ডেকে নেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শাহজালাল সাজু। তাদের সঙ্গে কথা বলার একপর্যায়ে সুযোগ বুঝে এক ছাত্রীর স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেন তিনি। হঠাৎ শিক্ষকের এমন আচরণে স্তম্ভিত হয়ে পড়ে ওই ছাত্রী। পরে সে দ্রুত কক্ষ থেকে বের হয়ে ক্লাসরুমে গিয়ে সহপাঠীদের বিষয়টি জানায়। পরবর্তীতে ক্লাসে শিক্ষক এলে ভুক্তভোগী ছাত্রী তাকেও বিষয়টি অবহিত করে। শিক্ষক বিষয়টি অন্যান্য সহকর্মীদের জানালে তারা ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও ভুক্তভোগী ছাত্রীকে নিয়ে প্রথমে প্রধান শিক্ষকের রুমে এবং পরে গেস্ট রুমে বিষয়টি সমাধানের জন্য বসেন। এ সময় ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ওই শিক্ষার্থীর অভিযোগটি অস্বীকার করেন। তবে একপর্যায়ে বিষয়টি অন্য কাউকে না জানানোর জন্য শিক্ষার্থীর হাতে হাত রেখে ‘ঘটনা গোপন করার শপথ’ করানোর চেষ্টা করেন তিনি। এতে উপস্থিত অন্যান্য শিক্ষকরা আপত্তি জানান এবং ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে ওই শিক্ষার্থীকে পুনরায় স্পর্শ করতে নিষেধ করেন।
স্কুল ছুটি শেষে ভুক্তভোগী ছাত্রী বাড়ি ফিরে তার মাকে বিস্তারিত জানায়। পরে তার মা বিদ্যালয়ে এসে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে কথা বললে তিনি প্রথম বিষয়টি অস্বীকার করেন এবং পরে ক্ষমা চান।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী জানায়, স্যার ইচ্ছে করেই আমাকে ‘ব্যাড টাচ’ করেছেন। স্যারের এমন ব্যবহারে আমি মানসিকভাবে খুব কষ্ট পেয়েছি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে পীরগঞ্জ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শাহজালাল সাজু বলেন, এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। শিক্ষার্থীরা আমার মেয়ের মতো। আমি কেন তাদের সঙ্গে এমন করব?
এদিকে একটি সূত্র জানায়, বিষয়টি সমাধানের জন্য ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রোকনুজ্জামান সোহেলের বাসায় মিমাংসা হওয়ার কথা ছিল। মেয়ে পক্ষের একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি গভীররাত পর্যন্ত ঠাকুরগাঁও জেলা শহরে অবস্থান করায় তা সম্ভব হয়নি। তবে আজ শুক্রবার সুবিধাজনক সময়ে সোহেল স্যারের বাড়িতে বিষয়টি নিয়ে উভয়ের পক্ষের মধ্যে আলোচনা সাপেক্ষে সমাধান হওয়ার কথা রয়েছে।
উল্লেখ্য, অভিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শাহজালাল সাজুর বিরুদ্ধে গত কয়েক মাস আগেও ওই বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছিল। সে সময়ও প্রভাব খাটিয়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। তাছাড়া লোক লজ্জার ভয়ে ভুক্তভোগীর পরিবার বিষয়টি নিয়ে চুপ হয়ে যায়।
এদিকে, শাহজালাল সাজু ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে একের পর এক ঘটনা ঘটিয়ে চলছেন। অনিয়ম এবং বিতর্ক যেন পিছু ছাড়ছে না এই শিক্ষকের। শাহজালাল সাজু’র এমন কর্মকান্ডে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারীসহ শিক্ষার্থী ও অভিভাবক এবং ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদের মাঝে ব্যাপক ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।






