
মোঃ হাসান মাহমুদ জয় স্টাফ রিপোর্টার
কুড়িগ্রাম জেলা জামায়াত ও অঙ্গ সংগঠনের ১০০ জনেরও বেশি সাবেক ও বর্তমান নেতাকর্মীর কাছ থেকে “ভিশন এন্টারপ্রাইজ” নামক ডিলারশিপ ব্যবসার কথা বলে প্রায় ১২ কোটি টাকা বিনিয়োগ নেওয়া হয় এবং কিছুদিন তাদের লভ্যাংশ দিয়ে পরে তা আত্মসাৎ করা হয়।
ওই প্রতিষ্ঠানের ডিডে দেখা যায় মূল মালিক ৪ জন। তাদের নাম হলো:
(ক) কুড়িগ্রাম জেলা জামায়াতের সহ-সেক্রেটারি ক. শাহজাল সবুজ,
(খ) সাবেক প্রচার সম্পাদক রফিকুল ইসলাম,
(গ) শিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় অর্থ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম, এবং
(ঘ) আওয়ামী লীগের আমলে উপজেলা নির্বাচনকারী, বহিষ্কৃত এবং এখন দলে যোগদানকারী ও জামায়াত কর্তৃক ঘোষিত ফুলবাড়ি উপজেলা চেয়ারম্যান ইঞ্জি. আ. সালাম সুজা।
তারা ০৮/১১/২০২০ ইং সালে প্রতিষ্ঠানটি চালু করে। তাদের প্রতিষ্ঠানের কর্মী হিসেবে কাজ করেন বর্তমান জেলা বাইতুল মাল সম্পাদক (১) জহুরুল ইসলাম, (২) জামায়াতের রোকন জাহিদুল, (৩) রুহুল আমিন।
তাদের বিষয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কুড়িগ্রাম জেলার আমীরকে নেতাকর্মীরা অভিযোগ দিলে তিনি একটি তদন্ত টিম গঠন করেন। তদন্ত শেষে তা ঊর্ধ্বতন দায়িত্বশীলকে পাঠানো হলে শাহজালাল সবুজকে দোষী সাব্যস্ত করে ৩ মাসের জন্য তার রোকনিয়াত মূলতবি করা হয় এবং দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
কুড়িগ্রাম জেলা আমীর ভুক্তভোগীদের নিয়ে এক আলোচনায় জানান, বাকিদের ব্যাপারে কেন্দ্র থেকে খুব দ্রুত সিদ্ধান্ত আসবে, তখন তা জানিয়ে দেওয়া হবে।
ওই প্রতিষ্ঠানের ভুক্তভোগী এবং কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ভোগডাঙ্গা ইউনিয়নের যুব বিভাগের সাবেক সভাপতি তৈয়বুর রহমান বলেন, “আমার ওয়াইফ শহীদ রফিকের বোন। তিনি এই প্রতিষ্ঠানে আমার সারাজীবনের তিলে তিলে গচ্ছিত ৮ লক্ষ টাকা রাখেন। তারা যেই শহীদের রক্তের উপর দাঁড়িয়ে আজ সংগঠন করছে, তার পরিবারের টাকা নিয়ে আত্মসাৎ করছেন। আমি দ্রুত টাকা ফেরত চাই।”
প্রতিষ্ঠানের আরেকজন ভুক্তভোগী জনাব সাদেকুর রহমান জানান, “তারা সংগঠনের পরিচয় কাজে লাগিয়ে আমাদের টাকা নিয়েছে ব্যবসার কথা বলে এবং তা আত্মসাৎ করে এখন টালবাহানা করছে। দ্রুত সমাধান না হলে আমরা তাদের বিরুদ্ধে রাস্তায় নামবো ইনশাআল্লাহ। আর টাকা আদায়ে যা করা দরকার তার সব করবো।”
ভুক্তভোগীদের টাকা ফেরতের ব্যাপারে আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছেন কুড়িগ্রাম জেলা জামায়াতের দায়িত্বশীলরা। তারা দফায় দফায় সবাইকে নিয়ে আলোচনা চালাচ্ছেন বলে জানা গেছে।






