
হৃদয় হাসান
মাদারগঞ্জ (জামালপুর) প্রতিনিধি:
জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় তীব্র গরমের মধ্যে ভয়াবহ লোডশেডিংয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। দিন-রাত মিলিয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১৮ থেকে ২০ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ না থাকায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে আগামী ২১ এপ্রিল শুরু হতে যাওয়া এসএসসি পরীক্ষার্থীরা। পাশাপাশি বিদ্যুৎ ও ডিজেল সংকটে কৃষি খাতেও দেখা দিয়েছে মারাত্মক প্রভাব।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। গরমে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে মানুষ। অন্যদিকে ডিজেল সংকটের কারণে ঘন্টার পর ঘন্টা ফিলিং স্টেশনে অপেক্ষা করেও প্রয়োজনীয় জ্বালানি মিলছে না। এতে বোরো ধানসহ অন্যান্য ফসলের সেচ কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
মাদারগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিস সূত্রে জানা গেছে, জোনাল ও কয়ড়া সাব-জোনাল এলাকায় দৈনিক বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ২৮ মেগাওয়াট হলেও সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৬ থেকে ৭ মেগাওয়াট। ফলে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না। উপজেলায় মোট সেচ সংযোগ রয়েছে ৩ হাজার ৪৩৬টি এবং আবাসিক ও বাণিজ্যিক গ্রাহক সংখ্যা ১ লাখ ১ হাজার ৯৫০।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, চলতি মৌসুমে ১৬ হাজার ৩১৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে, যা পুরোপুরি সেচনির্ভর। ইতোমধ্যে ধানের শীষ বের হতে শুরু করেছে। এ সময়ে নিয়মিত সেচ না দিলে ফলনে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
বালিজুড়ী ইউনিয়নের তারতাপাড়া এলাকার কৃষক আজাদ মিয়া বলেন, “ডিজেল পেতে ফিলিং স্টেশনে ঘন্টার পর ঘন্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। অনেক সময় তেলই পাওয়া যায় না। এতে খরচ বাড়ছে, সময়মতো সেচ দিতে পারছি না।”
একই এলাকার কৃষক লিয়াকত আলী বলেন, “এখন ধানের শীষ এসেছে। পানি না পেলে ধান নষ্ট হয়ে যাবে, চিটা হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।”
অন্যদিকে বিদ্যুৎ সংকটে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে শিক্ষার্থীরা। এসএসসি পরীক্ষার্থী জীবন হাসান বলেন, “পরীক্ষার আগে এমন পরিস্থিতি কল্পনাও করিনি। যখন পড়তে বসি তখনই বিদ্যুৎ চলে যায়। বাধ্য হয়ে মোমবাতি জ্বালিয়ে পড়তে হচ্ছে।”
শিক্ষার্থী আসিফ জানায়, “টর্চ লাইট বা মোমবাতির আলোতে পড়তে হচ্ছে। দ্রুত বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতি দরকার।”
মাদারগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার সৈয়দা ফারজানা ইয়াসমিন বলেন, “চাহিদা ২৮ মেগাওয়াট হলেও আমরা পাচ্ছি মাত্র ৬ থেকে ৭ মেগাওয়াট। এজন্য বাধ্য হয়ে লোডশেডিং করতে হচ্ছে। জাতীয় গ্রিডে উৎপাদন স্বাভাবিক হলে পরিস্থিতি উন্নত হবে।”
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান বলেন, “এখন ধানের শীষ বের হওয়ার গুরুত্বপূর্ণ সময়। এ সময় সেচ অত্যন্ত জরুরি। বিদ্যুৎ ও ডিজেল সংকট অব্যাহত থাকলে উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তবে বৃষ্টি হলে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হতে পারে।”
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমন চৌধুরী জানান, “জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় কৃষক ও যানবাহন চালকদের মধ্যে ফুয়েল কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। রোববার থেকে এই কার্ডের মাধ্যমে তেল সরবরাহ করা হবে।”
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে শিক্ষা, কৃষি ও জনজীবনে এর প্রভাব আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করবে।







