
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ
কুড়িগ্রামে স্কুল চলাকালীন সময়ে ক্লাস ফাঁকি দিয়ে রেলস্টেশন এলাকা ও কোয়ার্টারের সামনে প্রকাশ্যে ধূমপান করতে দেখা যাচ্ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের। নিয়মিত এই দৃশ্য চোখে পড়লেও বিষয়টি নিয়ে দেখার যেন কেউ নেই।সামাজিকভাবে বাঁধা দিতে গিয়ে দোকানী ও বখাটের সাথে একাধিক কোন্দলের ঘটনাও ঘটেছে বলে জানান স্থানীয়রা।কোমলমতি শিক্ষার্থীদের তামাকজাত দ্রব্য সেবনের এমন প্রবণতা,খুবই উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
সচেতন মহলের দাবি,অবিলম্বে স্কুল ফাঁকি দেওয়া শিক্ষার্থীদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ, তামাক বিক্রি নিয়ন্ত্রণ এবং নিয়মিত নজরদারি জোরদার করা না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিন সকাল ও দুপুরে স্কুল চলাকালীন সময়ে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ইউনিফর্ম পরিহিত শিক্ষার্থীরা দলবদ্ধভাবে রেলস্টেশন সংলগ্ন কোয়ার্টার এলাকায় অবস্থান করে। দোকানের সামনে কোয়াটারের পাশে প্রকাশ্যে সিগারেট ও অন্যান্য তামাকজাত দ্রব্য সেবন করছে।পাশের দুটি দোকান থেকে কোমলমতি শিক্ষার্থী তামাকজাত দ্রব্য নিয়ে সেবন করছে।এখানে সামাজিক সচেতনা বৃদ্ধি ও আইনগত পদক্ষেপ নেয়া না হলে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা আরো অন্ধকারের পথে পা বাড়ানো আশঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা কাজল মিয়া অভিযোগ করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এমন কর্মকাণ্ড চললেও কেউ কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না।রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি দ্রূত দোকান দুটি উচ্ছেদ করা হোক।
অভিভাবক বিপুল মিয়া জানান,“আমরা সন্তানদের স্কুলে পাঠাই লেখাপড়ার জন্য। অথচ তারা যদি স্কুল ফাঁকি দিয়ে নেশার দিকে ঝুঁকে আমরা বুঝবো কি করে।অবিলম্বে প্রশাসনের দৃষ্টি ও কঠোর নজরদারির প্রয়োজন।
সুশাসনের জন্য নাগরিক(সুজন) কুড়িগ্রাম জেলার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহানুর রহমান বলেন, ‘কুড়িগ্রামে বিভিন্ন স্থানে স্কুল পড়ুয়া কিশোরদের প্রকাশ্যে ধূমপান করতে দেখা যাচ্ছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। আইন অনুযায়ী ধূমপানে জরিমানার বিধান থাকলেও এর কার্যকর প্রয়োগ নেই বললেই চলে। ফলে উঠতি বয়সী শিক্ষার্থীরা সহজেই এই ক্ষতিকর অভ্যাসে জড়িয়ে পড়ছে। এটি শুধু তাদের স্বাস্থ্যের জন্য নয়, পুরো সমাজের জন্য হুমকি। অবিলম্বে জনসমাগমস্থল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সংলগ্ন এলাকায় আইন প্রয়োগ জোরদার করতে হবে। স্কুল কর্তৃপক্ষ ও অভিভাবকদের পাশাপাশি প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর জোর দেয়ার আহবান জানান তিনি।
বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক আবু হেনা মোস্তফা আলম জানান,রেলওয়ে স্টেশনের লীজ নেয়া থাকলে দোকান উচ্ছেদ করা তো সম্ভব নয়, সামাজিক ভাবে সচেতনতা বৃদ্ধি ও প্রশাসনিক ভাবে তদারকি বাড়াতে হবে।বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখা হবে।দোকানীরা যদি লীজ না নিয়ে অবৈধভাবে দোকান স্থাপন করে সেক্ষেত্রে উচ্ছেদ করা হবে বলে জানান তিনি।
কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ জানান,বিষয়টি দেখছি।প্রত্যেক অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন।কোন শিক্ষার্থী যাতে ওই স্থানে কোন রকম মাদকজাত দ্রব্য সেবন করার সুযোগ না পায় সেক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি।







