
কুড়িগ্রাম: আদর্শ এতিমখানা ও মাদ্রাসার ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের সাবেক অধ্যক্ষ মোঃ আজিজুর রহমান তার বিরুদ্ধে আনা বিভিন্ন অভিযোগকে ‘মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে দাবি করেছেন।

সংবাদ মাধ্যমে পাঠানো একটি লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেছেন, তার সম্মানহানির উদ্দেশ্যে এই ধরনের মিথ্যাচার করা হচ্ছে। সাবেক অধ্যক্ষ মোঃ আজিজুর রহমান জানান, ব্যক্তিগত পদ-পদবি লাভের জন্য নয়, বরং প্রতিষ্ঠানের স্বার্থ ও প্রবিধান রক্ষার জন্য তিনি উচ্চ আদালতে রিট আবেদন করেছেন। তার এই আবেদনের প্রেক্ষিতেই সুপ্রিম কোর্ট নবগঠিত কমিটির ওপর স্থগিতাদেশ দিয়েছেন, যা তার অভিযোগের সত্যতা প্রমাণ করে। তার অভিযোগ, কমিটি গঠনে বোর্ড-প্রবিধান (প্রবিধানমালা-২০০৯ ও সংশোধনী ২০১২) লঙ্ঘন করা হয়েছে, মৃত ব্যক্তিদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং প্রতিষ্ঠাতা ও আজীবন দাতা সদস্যদের বাদ দেওয়া হয়েছে।
ভুয়া ভোটার তালিকা ও গোপন কমিটি গঠনের অভিযোগ
মোঃ আজিজুর রহমান অভিযোগ করেন, কমিটির পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, খসড়া ভোটার তালিকা নিয়ম মেনে নোটিশ বোর্ড ও শ্রেণিকক্ষে প্রকাশ করা হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে দাতা, প্রতিষ্ঠাতা ও অভিভাবকদের কোনো রকম অবহিতকরণ ছাড়াই গোপনে কমিটি গঠন করা হয়েছে। তিনি জানান, গোপনে কমিটি গঠনের পাঁচ দিন আগেও তিনি তার ভাই মোঃ আতীকুর রহমান (দুলাল) ও মোঃ আনিসুর রহমান (দুলু) সহ মাদ্রাসায় গেলে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাওলানা আলতাফ এক সপ্তাহের মধ্যে কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া জানাবেন বলে আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু তার এই আশ্বাসের পাঁচ দিনের মধ্যেই গোপনে একটি পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠিত হয়।কমিটির কাগজপত্রে বলা হয়েছে আমি নাকি ‘মনোনয়ন ফর্ম সংগ্রহ করিনি’। এটি একটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন এবং উল্টো আমার ছেলে-মেয়ের স্বাক্ষরের কথা বলে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে, অথচ ভোটার তালিকার প্রকাশ নিয়ে অধিকাংশ সদস্য সম্পূর্ণ অজ্ঞ ছিলেন।
এছাড়াও, ভোটার তালিকায় মৃত ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগের জবাবে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দাবি, পরিবারের পক্ষ থেকে মৃত্যুর খবর জানানো হয়নি। এই প্রসঙ্গে মোঃ আজিজুর রহমান বলেন, ভোটার তালিকার ৪৪, ১০৮, ১৯২ এবং ২৭৭ নম্বরে থাকা ব্যক্তিরা ৩ থেকে ১০ বছর আগেই মারা গেছেন। ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিজেও তার কেরানির ওপর দায় চাপিয়ে অনিয়মের কথা স্বীকার করেছেন যা গত নিউজ উল্লেখ করা হয়েছে |
জমি ও অনুদান সম্পর্কে মোঃ আজিজুর রহমানের বিরুদ্ধে তার ছেলেকে দাতা সদস্য বানাতে টাকা আত্মসাৎ ও জালিয়াতির যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তাকেও তিনি সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনে একজন ব্যক্তি ২ লক্ষ ১০ হাজার টাকা অনুদান দিয়েছেন এবং তা নিয়ম মেনেই প্রতিষ্ঠানের কাজে ব্যবহার করা হয়েছে।
অন্যদিকে, তার বিরুদ্ধে জমি ও করের রশিদ জালিয়াতির অভিযোগও তিনি খণ্ডন করেছেন। তিনি বলেন, তারা যে জমির খতিয়ান ও দাগ নম্বর উল্লেখ করছে তা পরস্পরবিরোধী এবং ভিন্ন ভিন্ন সূত্র মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে। তারা বলছে খতিয়ান নং-৯৬০, দাগ নং-২৯৫৯ ও ২৯৬০ (মোট ২.১১ একর) — অথচ তারা বোর্ডে সম্পূর্ণ ভিন্ন কাগজপত্র জমা দিয়েছে। মাদ্রাসা বোর্ডের রেকর্ডে খতিয়ান নং-৮, দাগ নং-৪০০৩ (৩৪ শতক) ও ৩৯৯২ (১ একর ৭৭ শতক) — মোট ২.১১ একর হিসাবে উপস্থাপন করা হয়েছে; সবচেয়ে গুরুতর জালিয়াতি হলো, পার্শ্ববর্তী আরেকজনের ১৫ শতক জমিকে ১.৭৭ একর দেখিয়ে তারা ব্যাপক অনিয়ম করেছেন।
প্রতিষ্ঠান সম্বন্ধে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের বক্তব্যকে ‘ব্যক্তিগত মতামত’ বলে উড়িয়ে দেওয়ার প্রচেষ্টাকে মোঃ আজিজুর রহমান বাস্তবতাবিরোধী বলে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেন, ওই নেতারা শুধুমাত্র তাদের রাজনৈতিক পরিচয়ে কথা বলেননি, বরং ভুক্তভোগী অভিভাবক হিসেবেই তাদের বক্তব্য রেখেছেন।কোরবানির ঈদের পর তারা অধ্যক্ষের বাড়ির সাথে বাড়ি তার ভাতিজা রফিকুল কমিশনারের বাড়িতে গিয়ে সরাসরি অধ্যক্ষের সঙ্গে কথা বলেছেন, কিন্তু এখন তিনি তা অস্বীকার করছেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, তার বিরুদ্ধে শিক্ষক হয়রানি, চাঁদাবাজি ও ঘুষ গ্রহণের যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা ৩০ বছরের দায়িত্ব পালনে কঠোর নিয়ম পালনের কারণে ক্ষুব্ধ একটি চক্রের বানোয়াট অপপ্রচার। তিনি জানান, এর আগে ২০২৩ সালে একটি মিথ্যা প্রতিবেদন তৈরি করা শিক্ষা কর্মকর্তাকে ঘুষ ও দুর্নীতির কারণে প্রশাসন
তাকে অন্য স্থানে বদলি করেছিল।
সাবেক অধ্যক্ষর ভাই মোঃ আতীকুর রহমান (দুলাল) জানান,আমি নিজে হুজুরের সাথে কথা বলে আচ্ছি, তা অস্বীকার করার কোনো মানে হয় না।তিনি সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য যে উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশের কারণে গভর্নিং বডি অনুমোদন সংক্রান্ত স্মারকের কার্যকারিতা স্থগিত করেছে বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড। ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।







