
রংপুর প্রতিনিধিঃ
রংপুরে পাওনা টাকা ফেরত চাওয়াকে কেন্দ্র করে এক নারীকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মামলার প্রধান দুই এজাহারনামীয় আসামিকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-১৩।
র্যাব জানায়, “বাংলাদেশ আমার অহংকার” এই মূলমন্ত্রকে ধারণ করে এলিট ফোর্স র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) দীর্ঘদিন ধরে হত্যা, অপহরণ, ধর্ষণ ও ছিনতাইসহ বিভিন্ন গুরুতর অপরাধ দমনে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আসছে। বিশেষ করে হত্যার মতো স্পর্শকাতর ঘটনায় র্যাব পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে থাকে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে প্রধান আসামি মোঃ জাকির হোসেন (৩৫) ভিকটিমের কাছ থেকে বিভিন্ন সময়ে মোট ১৭ লাখ টাকা গ্রহণ করেন। নির্ধারিত সময়ে চাকরি না হওয়ায় ভিকটিম তার টাকা ফেরত চাইলে আসামি তাকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখাতে থাকে। এরই জেরে গত ১ মার্চ ২০২৬ দুপুর আনুমানিক ১২টা ৩০ মিনিটে টাকা ফেরত দেওয়ার কথা বলে জাকির হোসেন তার ভাড়াবাসায় ভিকটিমকে ডেকে নেয়। সেখানে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে আসামিরা পালিয়ে যায়।
পরদিন ২ মার্চ ২০২৬ তারিখে ভিকটিমের ভাই বাদী হয়ে রংপুর কোতয়ালী থানায় পেনাল কোডের ৩০২/২০১/৩৪ ধারায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-০৩/৫১)।
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করলে আসামিদের গ্রেফতারে র্যাব গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করে। এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-১৩, সিপিএসসি রংপুর এবং সিপিসি-২, নীলফামারীর একটি যৌথ দল ২৯ মার্চ ২০২৬ রাত ৩টা ১০ মিনিটে পঞ্চগড় জেলার সদর থানার টুনিরহাট এলাকায় অভিযান চালায়।
অভিযানে টুনিরহাট গ্রামের মোঃ আনারুলের বাড়ি থেকে মামলার প্রধান পলাতক আসামি মোঃ জাকির হোসেন (৩৫) এবং তার স্ত্রী ও মামলার ২ নম্বর আসামি মোছাঃ শিউলি বেগম (৩০)কে গ্রেফতার করা হয়। তাদের বাড়ি নীলফামারী জেলার জলঢাকা থানার নগভক্ত জসিপাড়া এলাকায়।
গ্রেফতারকৃত আসামিদের পরবর্তী আইনানুগ কার্যক্রমের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব।
র্যাব আরও জানায়, এ ধরনের হত্যা, ধর্ষণসহ সব ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে







