
আবুল হোসেন বাবলুঃ
র্যাবের পৃথক দুটি যৌথ অভিযানে
ঠাকুরগাঁও ও নীলফামারী জেলার পৃথক পৃথক ধর্ষণ মামলার পলাতক দুই আসামী গ্রেফতার। ঠাকুরগাঁও জেলার রুহিয়ায় ৯ বছর বয়সী মাদ্রাসার শিশু ছাত্রীকে ধর্ষণের মামলায় টঙ্গী থেকে ওই মাদ্রাসার পরিচালককে গ্রেফতার করেছে র্যাব।
বাদীর দায়ের করা এজাহারের বরাত দিয়ে র্যাব-১৩’র অধিনায়কের পক্ষে সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার গোস্বামী স্বাক্ষরিত গণমাধ্যমে পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে
জানানো হয়, ঠাকুরগাঁ জেলার রুহিয়া থানাধীন এলাকার স্থানীয় একটি মহিলা মাদ্রাসার ৯ বছর বয়সী শিশু ছাত্রীকে ওই মাদ্রাসার পরিচালক জোরপূর্বক ধর্ষণ করে।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ২০ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে নৈশ ভোজের পর মাদ্রাসার নির্ধারিত শ্রেণিকক্ষে অন্যান্য ছাত্রীদের সাথে সে ঘুমিয়ে যায়। রাত ১২ টার দিকে মাদ্রাসার পরিচালক আবু তালেব ভিকটিমকে ঘুম থেকে উঠিয়ে মাদ্রাসার রান্নাঘরে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে।
এ ঘটনায় ভিকটিমের মা বাদী হয়ে ঠাকুরগাঁও জেলার রুহিয়া থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নং- ০৪/২৫, তারিখ- ২৩/০৯/২০২৫; ধারা- নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ এর ৯(১)।
উক্ত ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। বিভিন্ন প্রিন্ট ইলেকট্রনিক ও অনলাইন মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়। ঘটনার প্রেক্ষিতে র্যাব আসামী গ্রেফতারে ছায়াতদন্ত শুরু করে।
ঘটনার পর থেকেই আসামী চতুরতার সাথে আত্মগোপনে ছিলো। আসামীকে গ্রেফতারের লক্ষ্যে র্যাব গোয়েন্দা তৎপরতা শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায়, র্যাব-১৩ সিপিসি-১ দিনাজপুর এবং র্যাব-১
সিপিসি-২ উত্তরা ক্যাম্পের যৌথ আভিযানিক দল অভিযান চালিয়ে উল্লেখিত ধর্ষণ মামলার অভিযুক্তকে জিএমপি গাজীপুরের টঙ্গী পূর্ব থানার অন্তর্ভুক্ত আলবারাকা বাস কাউন্টারের সামনে থেকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
গ্রেফতারকৃত মাদ্রাসার পরিচালক আবু তালেব (৩৭)ঠাকুরগাঁও জেলার
রুহিয়া থানাধীন ফেলানপুর গ্রামের
মৃত দরবার আলীর ছেলে।
পৃথক একটি অভিযানে র্যাব-১৩ এবং র্যাব-১ সিপিসি-১ এর পৃথক একটি যৌথ আভিযানিক দল নীলফামারী জেলার ডিমলা থানার চাঞ্চল্যকর ধর্ষণ মামলার এজাহার ভুক্ত পলাতক আসামীকে গ্রেফতার করেছে।
বাদীর এজাহার সূত্রে জানা যায় যে, গত ১৩ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা আনুমানিক পৌনে আটটার দিকে নীলফামারী জেলার ডিমলা থানাধীন দোহলপাড়া গ্রামে ভিকটিমের বাড়ীতে ফরিদুল ইসলাম সুকৌশলে প্রবেশ করে এবং ভিকটিমকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। ভিকটিমের চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে ফরিদুল ইসলাম (১৯) কৌশলে পালিয়ে যায়।
পরবর্তীতে ভিকটিমের মা বাদী হয়ে নীলফামারী জেলার ডিমলা থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নং-১৩, তারিখ- ১৪/০৯/২০২৫ খ্রিঃ, ধারা- নারী ও শিশু দমন আইন ২০০০ (সংশোধনী/০৩) এর ৯(১)। ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচারিত হয়।
এরই প্রেক্ষিতে র্যাব-১৩ রংপুর সিপিসি-২ নীলফামারী এবং র্যাব-১ সিপিসি-১ উত্তরা এর একটি যৌথ আভিযানিক দল ১৮ অক্টোবর দুপুর আড়াইটার দিকে ডিএমপি ঢাকার বাড্ডা থানাধীন দক্ষিণ বাড্ডা তিতাস রোড এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে এজাহারনামীয় ১নং পলাতক আসামী নীলফামারী জেলার ডিমলা থানাধীন পূর্ব ছাতনাই গ্রামের ইউনুস আলীর ছেলে ফরিদুল ইসলাম(১৯)।
পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ধৃত আসামীদের সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।









