
হরিণাকুণ্ডু (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি:
ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলায় আপন চাচিকে নিয়ে মালয়েশিয়া প্রবাসী এক ভাতিজা উধাও হওয়ার ১৮ দিন পার হলেও এখনও তাদের কোনো সন্ধান মেলেনি।
সম্পর্কের পবিত্রতা ক্ষুণ্ন করে ঘটা এই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ ও গুঞ্জন সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে ফেলে যাওয়া ৬ বছরের কন্যাসন্তানকে নিয়ে পথে পথে ঘুরছেন দিশেহারা স্বামী।
ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের গবরাপাড়া গ্রামে।
’মা’ ডাকের আড়ালে পরকীয়া
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গবরাপাড়া গ্রামের আব্দুল কুদ্দুসের ছেলে হাসানুর রহমান কিছুদিন আগে বিদেশ থেকে বাড়ি ফেরেন। পারিবারিক সম্পর্কের সুবাদে তিনি প্রতিবেশী মোজাম্মেল হকের ছেলে সানজিদুর রহমানের স্ত্রী রুমানা খাতুনকে (২৬) ‘চাচি’ বলে ডাকতেন। এমনকি লোকসমক্ষে তাকে সম্মান করে ‘মা’ বলেও সম্বোধন করতেন হাসানুর।
ভুক্তভোগী স্বামী সানজিদুর রহমান কাজের প্রয়োজনে প্রায়ই বাড়ির বাইরে থাকতেন। এই সুযোগে ভাতিজা হাসানুর তার নিজস্ব ইজিবাইকে করে চাচি রুমানাকে বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে ঘোরাতে নিয়ে যেতেন। এভাবে ঘোরার ছলে একপর্যায়ে দুজনের মধ্যে গভীর পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে রুমানা তার ৬ বছরের কন্যাসন্তান সাবরিনাকে রেখে হাসানুরকে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নিলে পরিবার ও সমাজের মানুষ তা কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করে।
সর্বশেষ গত ৯ জুন (২০২৬) রাত আনুমানিক সাড়ে আটটার দিকে স্বামী সানজিদুর রহমান বাড়িতে না থাকার সুযোগে হাসানুরের প্ররোচনায় রুমানা ঘরের আলমারি ভেঙে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকার ও মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে ঘর ছাড়েন। এরপর থেকেই তারা দুজন সম্পূর্ণ নিখোঁজ রয়েছেন।
লজ্জায় মুখ ঢাকছে পরিবার, পথে পথে কাঁদছে শিশু
এই অনৈতিক কাণ্ডে চরম বিব্রত হাসানুরের পরিবার। হাসানুরের পিতা আব্দুর কুদ্দুস আক্ষেপ করে বলেন,
”আমার ছেলে আর ভাবির কোনো সন্ধান এখনও পাইনি। ছেলে যে জঘন্য ও লজ্জাজনক ঘটনা ঘটিয়েছে, তাতে সমাজে আমাদের মুখ দেখানোর মতো আর কোনো জায়গা নেই। আমরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই।”এদিকে স্ত্রী ও ঘরের সঞ্চয় হারিয়ে নিঃস্ব স্বামী সানজিদুর রহমান এখন অবুঝ কন্যাসন্তানকে বুকে নিয়ে পাগলপ্রায়। মা হারা ৬ বছরের শিশুটি দিন-রাত শুধু মায়ের জন্য কাঁদছে।এলাকাবাসী জানান, সম্পর্কের নামে এমন অনৈতিকতা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। তারা অবিলম্বে এই যুগলকে খুঁজে বের করে আইনি ও সামাজিক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।








