
কবির হোসেন রাকিব প্রতিবেদক, কমলনগর | লক্ষ্মীপুর
লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার ৮নং চরকাদিরা ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডে খলিল নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ধর্ষণ, চুরি ও ডাকাতিসহ ভয়াবহ সব অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত খলিল ও তার বাহিনীর অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তার বিচার দাবিতে ইতিমধ্যে মানববন্ধন ও থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগীরা।
ঘটনার বিবরণ ও থানায় অভিযোগ
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চরকাদিরা ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা খলিলের বিরুদ্ধে সম্প্রতি কমলনগর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন নুপুর আক্তার নামের এক নারী। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, খলিল তাকে ধর্ষণের চেষ্টা , চুরি এবং প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছেন। শুধু নুপুর আক্তারই নন, ওই এলাকার একাধিক নারীর অভিযোগ—খলিল ও তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে আসছে।
অসহায় পরিবারগুলোর আর্তনাদ
ভুক্তভোগী এলাকাবাসীরা জানান, তারা মূলত নদীভাঙন কবলিত এলাকার মানুষ। আগে তারা ৬নং পাটোয়ারির হাট ইউনিয়নে বসবাস করতেন। নদী ভাঙনের পর প্রায় ৪-৫শ মানুষ চরকাদিরা ইউনিয়নের এই এলাকায় নতুন করে বসতি স্থাপন করেন। তারা দিনমজুর ও অত্যন্ত দরিদ্র।
এলাকার নারীরা অভিযোগ করে বলেন:
”আমাদের স্বামীরা জীবিকার তাগিদে নদীতে মাছ ধরতে যায় বা পাটের কাজ করতে বাইরে থাকে। বাড়ি খালি থাকার সুযোগে খলিল ও রাজু তাদের দলবল নিয়ে ঘরে ঢুকে চুরি-ডাকাতি করে এবং আমাদের ওপর পাশবিক নির্যাতন (ধর্ষণ) চালায়। আমরা গরিব বলে কোথাও বিচার পাচ্ছি না।”
জনপ্রতিনিধিদের বক্তব্য
এই বিষয়ে ৮নং চরকাদিরা ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান হারুন বলেন, “খলিলের বিরুদ্ধে আগে থেকেই অনেক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে। সে এলাকায় একজন চিহ্নিত অপরাধী হিসেবে পরিচিত।”
একই ওয়ার্ডের মেম্বার (ইউপি সদস্য) কবির হোসেন জানান, ইতিমধ্যে খলিলের বিরুদ্ধে অসংখ্য অভিযোগ তাদের কাছে এসেছে। এলাকাবাসী তার অত্যাচারে অত্যন্ত আতঙ্কিত অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে।
অভিযুক্তের অবস্থান
এসব গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত খলিলের সাথে গণমাধ্যমকর্মীরা যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভিযোগ ওঠার পর থেকেই সে এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা
এদিকে খলিল বাহিনীর হাত থেকে রক্ষা পেতে এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে এলাকাবাসী মানববন্ধন করেছেন। তারা স্থানীয় প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে দ্রুত হস্তক্ষেপ এবং এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছেন।






