
প্রতিবেদক, কমলনগর (লক্ষ্মীপুর):
লক্ষ্মীপুর জেলার কমলনগর উপজেলার ৫ নং চরফলকন ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের মাতাব্বর হাট বাজারে দোকান ঘরের মালিকানা ও দখল নিয়ে আপন দুই ভাইয়ের স্ত্রীর মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে মারজাহান বেগম (৪০) নামের এক গৃহবধূ গুরুতর আহত হয়ে বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এই ঘটনায় উভয় পক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং দুই পক্ষই থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগী ও প্রথম পক্ষের অভিযোগ
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত প্রথম পক্ষের মারজাহান বেগম (স্বামী: গিয়াস উদ্দিন) অভিযোগ করে গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন,
”দোকান ঘরের বিরোধকে কেন্দ্র করে আমার ওপর আকস্মিক ঝাঁপিয়ে পড়ে আমার জা বিবি হাজেরা ও তার মেয়ে হামিদা। তারা আমাকে লাঠিসোটা দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করতে করতে একপর্যায়ে অজ্ঞান করে ফেলে। পরে খবর পেয়ে কমলনগর থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আমাকে উদ্ধার করে এবং চিকিৎসার জন্য লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করায়। আমরা এই অন্যায়ের বিচার চাই এবং মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছি।”
ঘটনার সময় মারজাহান বেগমের সাথে তার মেয়ে বিবি মরিয়ম বিথিও উপস্থিত ছিলেন বলে জানা যায়।
বিবাদী ও দ্বিতীয় পক্ষের বক্তব্য
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বিবাদী বিবি হাজেরা (স্বামী: প্যারালাইসিস আক্রান্ত রোগী) গণমাধ্যমকর্মীর কাছে মারামারির কথা স্বীকার করলেও মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,
”এই মারামারিতে আমরা মা-মেয়ে দু’জন ছিলাম। অন্যদিকে উনারা (মারজাহান বেগম) ওনার স্বামী গিয়াস উদ্দিনসহ তিনজন ছিলেন। প্রকৃতপক্ষে মারজাহানের স্বামী গিয়াস উদ্দিন আমাকে ঘুষি দিতে গিয়েছিলেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত সেই ঘুষি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে ওনার নিজের স্ত্রীর (মারজাহান) নাকে গিয়ে লাগে এবং তিনি রক্তাক্ত হয়ে পড়ে যান। এই আঘাতের সাথে আমি বা আমার মেয়ে জড়িত নই। উল্টো ওনারা সংখ্যায় বেশি হওয়ায় আমাদেরকেই মারধর করেছেন।”
বিবি হাজেরা আরও অভিযোগ করেন, তার স্বামী দীর্ঘদিন যাবত প্যারালাইসিসে আক্রান্ত হয়ে ঘরেই থাকেন। এই সুযোগে গিয়াস উদ্দিন প্রায়শই তাদের মারধর ও নানাভাবে হয়রানি করতে আসেন।
বর্তমান পরিস্থিতি
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাতাব্বর হাট বাজারের ওই দোকান ঘরটি নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই বিরোধ চলে আসছিল। ঘটনার দিন কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে তা হাতাহাতি ও মারামারিতে রূপ নেয়। পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলেও এলাকায় এখনো থমথমে ভাব বিরাজ করছে।
এই বিষয়ে কমলনগর থানা পুলিশ জানায়, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আহত নারীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠিয়েছে। এখনো কোনো পক্ষের লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।







