
ওসমান গনি বাবু
পাটগ্রাম প্রতিনিধি
পাটগ্রাম উপজেলার বিভিন্ন যায়গায় সরকারি নিষেধাজ্ঞা ও আইন অমান্য করে চলছে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের মহোৎসব। প্রভাবশালী চক্রের মদদে দিনের পর দিন ড্রেজার মেশিন বসিয়ে নদী থেকে বালু তোলায় একদিকে যেমন নদীর গতিপথ পরিবর্তন হচ্ছে, অন্যদিকে হুমকির মুখে পড়ছে ফসলি জমি, বসতভিটা ও সরকারি অবকাঠামো।
পরিবেশ ও জনজীবনে প্রভাব।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ধরলা নদীর তীরবর্তী এলাকায় অন্তত ১০-১৫টি পয়েন্টে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বালু তোলার ফলে নদীর পাড়ে বড় ধরনের ধস দেখা দিয়েছে এবং নদীর চরে করা ফসল ও অনেক আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। বর্ষা মৌসুম আসার আগেই নদী ভাঙন তীব্র হওয়ার আশঙ্কা করছেন নদীপাড়ের মানুষ।
বালু উত্তোলনের ফলে সৃষ্ট ক্ষতির প্রধান দিকগুলো হলো:
নদী ভাঙন: অপরিকল্পিতভাবে বালু তোলায় নদীর তলদেশে বড় গর্তের সৃষ্টি হয়, যা পাড় ধসের প্রধান কারণ।
পরিবেশ বিপর্যয়: জলজ প্রাণীর প্রজনন ক্ষেত্র নষ্ট হচ্ছে এবং জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়ছে।
রাস্তাঘাটের ক্ষতি: বালু পরিবহনের জন্য ব্যবহৃত ভারী ট্রাক ও ড্রাম ট্রাকের কারণে গ্রামীণ কাঁচা-পাকা রাস্তাগুলো চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে।
ভুক্তভোগীদের আর্তনাদ
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, “আমরা বারবার নিষেধ করা সত্ত্বেও প্রভাবশালীরা বালু তোলা বন্ধ করছে না। প্রতিবাদ করলে উল্টো হুমকির শিকার হতে হয়। আমাদের শেষ সম্বল জমিটুকুও এখন নদীর পেটে যাচ্ছে।”
সচেতন মহল ও বিশেষজ্ঞদের মতে, বালু মহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০-এর কঠোর প্রয়োগ এবং রাজনৈতিক সদিচ্ছা ছাড়া নদী রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে।







