
এইচ এম হাছনাইন, বিশেষ প্রতিনিধি
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ডাকা ইসলামপন্থীদের এক বাক্স নীতি যখন রাজনৈতিক নীতি হয়ে যায়। যখন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ সেই রাজনৈতিক নীতি থেকে সরে এসে এককভাবে নির্বাচনের ঘোষণা দেয়।
সেই চলমান সংকট নিয়ে আলোচনা করেছেন ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ-এর কেন্দ্রীয় আইন ও মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক ইউসুফ পিয়াস।
তিনি আজ ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, শনিবার, বিকালে তার এক ফেসবুক পোস্টে লিখেন, “গত কয়েকদিন পীরসাহেব চরমোনাইয়ের খুব কাছাকাছি থাকার সুযোগ হয়েছে। এই সময়ে ঐক্য প্রক্রিয়ার পুরো বিষয়টি জানা ও বোঝার সুযোগ পেয়েছি। আমি দৃঢ়ভাবে অনুভব করেছি, তিনি যে উদ্দেশ্যে এই ঐক্যের পাটাতন নির্মাণ করতে চেয়েছিলেন, মাঝপথে কিছু স্বার্থান্বেষী ও মোড়লিপনায় তা আজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে নিয়েছে।
গত কয়েকদিন হুজুর মানসিকভাবে ভীষণ পেরেশান ছিলেন। অসংখ্য নির্ঘুম রাত কাটিয়েছেন। ঐক্যের প্রসঙ্গ উঠলেই বারবার অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়তেন।
তিনি প্রায়ই বলতেন, জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশের যে আশাব্যঞ্জক পরিবেশ তৈরি হয়েছিল, তা দিনদিন বদলে যাচ্ছে। মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা যেন ধীরে ধীরে নিভে যাচ্ছে। ইসলামের পক্ষে যে জোয়ার সৃষ্টি হয়েছিল, আজ তা নিভু নিভু অবস্থায় পৌঁছেছে। লাস্ট কয়েকদিন হুজুরের চেহারার দিকে তাকানো যেতো না। কেমন যেন নিজের কাছেও নিজেকে অসহায় মনে হতো।
আমি দৃঢ়ভাবে বলতে পারি, এই ঐক্যবদ্ধ প্ল্যাটফর্মে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ভিন্ন ভিন্ন উদ্দেশ্যে যুক্ত হলেও, পীরসাহেব চরমোনাই একমাত্র ইসলাম, দেশ ও মানবতার কল্যাণের লক্ষ্যেই যুক্ত হয়েছেন এবং সবাইকে যুক্ত করেছেন।
কিন্তু তিনি যখন বুঝতে পারলেন, এই সাজানো বাগান ধ্বংস করার জন্য একশ্রেণীর অসাধু চক্র বাহির থেকে পরিকল্পিতভাবে প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছে, তখন তিনি ঐক্যে যুক্ত সকল দলকে সতর্ক করেছিলেন। দেশীয় ও বিদেশি এনজিওগুলোর ষড়যন্ত্র সম্পর্কেও সবাইকে সচেতন করেছিলেন। দুর্ভাগ্যজনকভাবে সবাই সেই সতর্কতা গ্রহণ করতে পারেননি। ক্ষমতার লোভ কিংবা অন্য কোনো দুর্বলতার কারণে অনেক দলই অপপ্রচারের ফাঁদে পা দিয়েছে।
এরপর থেকেই শুরু হয় ইসলাম ও ইসলামের স্বার্থকে পরিকল্পিতভাবে মাইনাস করার অপচেষ্টা। প্রভুদের খুশি করতে এই ষড়যন্ত্রে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশকেও জড়ানোর চেষ্টা করা হয়। নানা কৌশলে ফাঁদে ফেলতে চাইলেও আল্লাহর রহমতে তারা শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়েছে।
পীরসাহেব চরমোনাই সর্বশেষ মুহূর্ত পর্যন্ত চেয়েছেন, ইসলামপন্থীদের ঐক্যবদ্ধ প্ল্যাটফর্ম অটুট থাকুক। এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে তিনি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম, কেন্দ্রীয় আমেলা, প্রেসিডিয়াম ফোরাম, সারাদেশের মজলিসে শুরা, দলীয় মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী, দেশের শীর্ষ আলেমদের মতামত গ্রহণ করেছেন। নিজে ইস্তেখারা করেছেন এবং আল্লাহর সাহায্য কামনায় অসংখ্য নেতাকর্মী নফল রোজা পর্যন্ত রেখেছেন।
আমি দৃঢ় বিশ্বাস রাখি, পীরসাহেব চরমোনাইয়ের এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত ইনশাআল্লাহ ইসলাম, দেশ ও মানবতার কল্যাণ বয়ে আনবে।
অতএব, হতাশ হওয়ার কোনো কারণ নেই। পীরসাহেব চরমোনাই একটা কথাই বলেছেন এদেশে কেউই যদি ইসলামের পক্ষে না দাঁড়ায় ! আল্লাহর রহমতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ তার সকল সম্ভাবনা উপেক্ষা করে হলেও ইসলামের পক্ষে এখন যেমন আছে ইনশাআল্লাহ সামনেও ইসলামের স্বার্থ রক্ষায় পিছপা হবে না।”







