
নিজস্ব প্রতিবেদক :
রংপুরের মিঠাপুকুরে চোর সন্দেহে পিটিয়ে হত্যা: ঢাকায় র্যাবের অভিযানে এজাহারনামীয় আসামি গ্রেফতার
রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলায় চোর সন্দেহে এক যুবককে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করার ঘটনায় এজাহারনামীয় পলাতক আসামিকে ঢাকার উত্তরা এলাকা থেকে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)।
র্যাব জানায়, ‘বাংলাদেশ আমার অহংকার’ মূলমন্ত্রকে ধারণ করে এলিট ফোর্স র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন দীর্ঘদিন ধরে চাঞ্চল্যকর হত্যা, অপহরণ, ধর্ষণ ও ডাকাতিসহ গুরুতর অপরাধ দমনে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আসছে। র্যাব-১৩ এর আওতাধীন এলাকায় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের মতো গুরুতর অপরাধে তারা পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, নিহত মোঃ সোহেল রানা (২৮) পেশায় ট্রাক্টর-ট্রলি চালক। প্রায় দেড়-দুই মাস আগে ১নং আসামি মোঃ হাফিজুর রহমানের বাড়ি থেকে একটি মোটরসাইকেল চুরি হয়। ওই ঘটনার সন্দেহে আসামিরা সোহেল রানাকে জড়িত বলে মনে করে। গত ২৭ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে ৩নং আসামি মোঃ মোনারুল ইসলাম ভিকটিমকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। পরে মোটরসাইকেল উদ্ধারের নামে মিঠাপুকুরের বিভিন্ন এলাকায় ঘোরানোর পর তাকে হাফিজুর রহমানের বাড়িতে আটকে রাখা হয়।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, স্বীকারোক্তি আদায়ের জন্য ভিকটিমকে মারধর করা হয় এবং ইলেকট্রিক শক দেওয়া হয়। পরে ভিকটিমের পিতামাতার কাছে ২০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। আসামিদের কথামতো বালুয়া বাজারে গেলে ভিকটিমের পিতামাতাকে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে আটকে রাখা হয় এবং তিনটি সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার পর সোহেল রানাকে তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
পরদিন ২৯ অক্টোবর ২০২৫ রাতে চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার প্রস্তুতিকালে রাত আনুমানিক ১১টা ৩০ মিনিটে ভিকটিমের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় ৩০ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে নিহতের পিতা বাদী হয়ে মিঠাপুকুর থানায় পেনাল কোডের ৩০২/৩৬৪/৩৮৭/৩৪ ধারায় হত্যা মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-৫৯)।
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। আসামিদের গ্রেফতারে অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি র্যাব গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করে। সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখ সন্ধ্যা ৬টা ০৫ মিনিটে র্যাব-১৩ ও র্যাব-১-এর যৌথ অভিযানে ঢাকার উত্তরা পূর্ব থানাধীন সেক্টর-৮, প্লট-৯/এ, উত্তরা বনবিথী কমপ্লেক্সের সামনে থেকে মামলার ৩নং এজাহারনামীয় পলাতক আসামি মোঃ মোনারুল ইসলাম (৩০) গ্রেফতার হন।
পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গ্রেফতারকৃত আসামিকে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ-এর বিমানবন্দর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। র্যাব জানিয়েছে, এ ধরনের সহিংস অপরাধ দমনে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।







