
পরশুরাম প্রতিনিধি:
ফেনীর পরশুরাম উপজেলার বক্সমাহমুদ ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কেতরাঙ্গা গ্রামে কাবিখা (গম) প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়ন না করেই সরকারি বরাদ্দের চাল উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রকল্পের আওতায় রাস্তা সংস্কারের কথা থাকলেও বাস্তবে ওই রাস্তার অধিকাংশ কাজ তারা নিজেদের অর্থায়নে সম্পন্ন করেছেন। এ ঘটনায় প্রকল্পের বাস্তবায়ন, বরাদ্দের বিপরীতে চাল উত্তোলন এবং তা ব্যবহারের বিষয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এলাকায় স্থাপিত প্রকল্পের সাইনবোর্ড অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার (কাবিখা-গম) সাধারণ কর্মসূচির আওতায় দ্বিতীয় পর্যায়ে প্রকল্পটি নেওয়া হয়। প্রকল্পের নাম ‘৭নং ওয়ার্ড কেতরাঙ্গা গ্রামের ইদ্রিসের বাড়ির পার্শ্বে আগ্রের ব্রিজগামী রাস্তায় মাটি ভরাট’। এতে বরাদ্দ হিসেবে ৭ দশমিক ১৭০ মেট্রিক টন গম উল্লেখ রয়েছে। কাজ শুরুর তারিখ ১ জানুয়ারি ২০২৬ এবং সম্ভাব্য সমাপ্তির তারিখ ৩১ মার্চ ২০২৬।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকল্পের নামে সাইনবোর্ড স্থাপন করা হলেও বরাদ্দের তুলনায় দৃশ্যমান কোনো কাজ হয়নি। যে সড়কে মাটি ভরাটের কথা উল্লেখ রয়েছে, সেটি এলাকাবাসী নিজেদের অর্থায়নে মাটি ফেলে সংস্কার করেছেন বলে দাবি তাদের। তবে প্রকল্প কমিটির সভাপতি আব্দুল মান্নান মানিক একটি স্ক্যাভেটর দিয়ে রাস্তার ওপর সামান্য মাটি ছিটিয়ে দেন এবং কয়েকটি গর্ত ভরাট করেন বলে স্থানীয়রা জানান।
এদিকে পরশুরাম খাদ্য গুদামের তথ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট বরাদ্দের বিপরীতে ৩১ মার্চ ২০২৬ তারিখে ৩ দশমিক ১৬০ মেট্রিক টন এবং ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে ২ দশমিক ৫০৪ মেট্রিক টন চাল উত্তোলন করা হয়েছে। দুই দফায় মোট ৫ দশমিক ৬৬৪ মেট্রিক টন বা ৫ হাজার ৬৬৪ কেজি চাল উত্তোলন করা হয়। সরকার বর্তমানে গমের পরিবর্তে চাল দিয়ে থাকে।
এ অবস্থায় স্থানীয়দের প্রশ্ন, প্রকল্পের কাজ যদি বাস্তবে না হয়ে থাকে এবং রাস্তার কাজ এলাকাবাসী নিজেদের অর্থায়নে করে থাকেন, তাহলে সরকারি বরাদ্দের বিপরীতে উত্তোলন করা চাল কোথায় এবং কীভাবে ব্যবহার করা হয়েছে?
এ বিষয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি আব্দুল মান্নান মানিক বলেন, তিনি প্রকল্পের বিষয়ে কিছুই জানেন না। তিনি শুধু সই করেছেন বলে দাবি করেন। উত্তোলিত চাল কোথায় গেছে, সে বিষয়েও তিনি কিছু জানেন না বলে জানান।
অন্যদিকে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) রাজীব আহমেদ বলেন, প্রকল্প কমিটির সভাপতি আব্দুল মান্নান মানিকই কাজটি করেছেন এবং তাঁর স্বাক্ষরের মাধ্যমে চাল উত্তোলন করা হয়েছে। তিনি বলেন, “এখন তিনি কেন এ বিষয়ে জানেন না বলছেন, সেটা আমরা বুঝতে পারছি না।”
পিআইও আরও দাবি করেন, প্রকল্পের কাজ যথাযথভাবে সম্পন্ন করা হয়েছে। কাজ শুরুর আগে ও কাজ শেষ হওয়ার পরের ছবি তাদের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে বলেও জানান তিনি।







