
সাগর আহমেদ জজ,,
নেত্রকোনা প্রতিনিধি:
পারিবারিক সম্পর্কের পবিত্রতা ধুলোয় মিশিয়ে দিল এক জন্মদাতা পিতা। নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলায় নিজের ১৩ বছরের শিশু কন্যাকে ধর্ষণের অভিযোগে সজিত (৩০) নামের এক পাষণ্ড পিতাকে গ্রেপ্তার করেছে পূর্বধলা থানা পুলিশ। গতকাল শুক্রবার (২৬ জুন) দিবাগত রাতে উপজেলার আগিয়া ইউনিয়নের কৈলাটি গ্রামে এই রোমহর্ষক ঘটনাটি ঘটে। গ্রেপ্তারকৃত সজিত ওই গ্রামের মৃত বছির শেখের ছেলে।
গভীর রাতে নির্মমতা, অতঃপর জনতার হাতে ধরা
মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২ টার দিকে সজিত তার নিজ ঘরে ঘুমন্ত শিশু কন্যাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। এ সময় বুকফাটা চিৎকার ও কান্নাকাটি জুড়ে দেয় ভিকটিম। গভীর রাতে অবুঝ শিশুর এমন কান্না শুনে প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন। বেগতিক দেখে কুলাঙ্গার পিতা পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে স্থানীয় জনতা তাকে হাতেনাতে ধরে গণধোলাই দেয়। পরে খবর পেয়ে পূর্বধলা থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত সজিতকে গ্রেপ্তার করে এবং ভিকটিম শিশুকে তাদের হেফাজতে নেয়।
এ ঘটনায় ভিকটিমের প্রতিবেশী চাচা মাইদুজ্জামান সরকার বাদী হয়ে পূর্বধলা থানায় একটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেছেন।
আগেও মাকে ধর্ষণের চেষ্টা করেছিল এই মাদকাসক্ত সজিত!
স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে সজিতের ব্যাপারে এক চাঞ্চল্যকর ও ভয়ানক তথ্য পাওয়া গেছে। তারা জানান, সজিত চরম মাদকাসক্ত। নেশার তাড়নায় সে মানবিকতা পুরোপুরি হারিয়ে ফেলেছিল। এর আগেও সে তার নিজের জন্মদাত্রী মাকে ধর্ষণের চেষ্টা করেছিল! সে সময় লোকলজ্জা আর প্রাণভয়ে তার বৃদ্ধা মা বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে আত্মরক্ষা করেন।
পুলিশের বক্তব্য: অপরাধ স্বীকার করেছে পাষণ্ড পিতা
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে পূর্বধলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান:
”প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ভুক্তভোগী শিশুটি তার বাবার বিরুদ্ধে লোমহর্ষক এই ধর্ষণের বিবরণ দিয়েছে। পরবর্তীতে পুলিশের কড়া জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত সজিতও নিজের মেয়েকে ধর্ষণের কথা স্বীকার করতে বাধ্য হয়।”
ওসি আরও জানান, গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে আজ (শনিবার) আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। একই সাথে ভুক্তভোগী শিশুর ডাক্তারি পরীক্ষা (মেডিকেল টেস্ট) এবং পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম দ্রুত গতিতে চলমান রয়েছে। এমন জঘন্য অপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে পুলিশ তৎপর রয়েছে।







